সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ও সদর উপজেলার খানপুরে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার এ দুটি ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন আশাশুনি উপজেলার আরার গ্রামের চিংড়িঘের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন (৩৫) ও সদর উপজেলার খানপুর গ্রামের আবদুল মাজেদ সরদার (৬২)।
জাকির হোসেনের স্ত্রী তহুরা খাতুন অভিযোগ করেন, আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সালিস করার জন্য শুক্রবার রাত আটটার দিকে কাদাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান তাঁর স্বামীকে। সালিসে মফিজুল ইসলাম, ইসরাফিল হোসেনসহ কয়েকজন তাঁর স্বামীকে লাঠি দিয়ে পেটান। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাঁকে লোক দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে তাঁর স্বামী বলেন, মফিজুল চেয়ারম্যান, ইসরাফিলসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেছেন। এ কথা বলতে বলতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না। তবে জাকির হোসেন নকল সোনা দিয়ে পয়সা তৈরি করতেন। উপজেলার বদরতলা এলাকার একজনের কাছে পয়সা বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। ওই টাকা নিয়ে জাকিরের সঙ্গে ইসরাফিল, ডালিম ও নাহিদের দুই মাস ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে এলাকায় কয়েকবার ঝামেলাও হয়েছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি।
আবদুল মাজেদ সরদারের ভাই কামরুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে একই গ্রামের আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে মতিয়ার রহমান, আবদুর সবুর, মো. জাফর ও মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তাঁর ভাইকে খানপুর বাজারে নিয়ে বেদম মারধর করেন। আহতাবস্থায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাত আটটার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
আনিছুর রহমান বলেন, আবদুল মাজেদ সম্পর্কে তাঁর চাচা। পূর্ববিরোধের জের ধরে আবদুল মাজেদের ছেলে আলী আহম্মদের নেতৃত্বে তাঁর মেজো ভাই মতিয়ার রহমানকে মারধর করা হয়। তাঁর মেজো ভাই বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁরা থানায় মামলা করেছেন। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর চাচা আবদুল মাজেদ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার জন্য স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ বলেন, এ ঘটনায় আবদুল মাজেদের ছেলে আলী আহম্মদ বাদী হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এটা হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু, তা বলা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0