ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম খানের (৫৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৈকাঠী গ্রাম থেকে গতকাল শনিবার সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজকও ছিলেন।
নিহত শাহ আলমের পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে শাহ আলমকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যান।
পুলিশ ও নিহত শাহ আলমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে শাহ আলম ঢাকার বনশ্রীর বাসা থেকে অটোরিকশায় সদরঘাট যাচ্ছিলেন। ওই দিন তাঁর লঞ্চে করে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর শাহ আলম ও তাঁর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. মানিককে ডিবি পরিচয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলমের স্ত্রী হাফিজা আক্তার থানায় অপহরণের লিখিত অভিযোগ করেন। গতকাল শনিবার সকালে রাজাপুরের নৈকাঠী গ্রামে শাহ আলমের বাড়ির কাছে একটি রাস্তার পাশে তাঁর গলাকাটা লাশ দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
শাহ আলমের স্ত্রী হাফিজা বেগম বলেন, শাহ আলম বাসা থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় সদরঘাট যাওয়ার পথে বনশ্রী বি-ব্লকের কাছে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি তাঁকে (শাহ আলম) বহনকারী অটোরিকশাটির গতিরোধ করেন। এরপর সেখানে একটি মাইক্রোবাসে আরও চার থেকে পাঁচজন আসেন। তাঁরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে শাহ আলম ও মানিককে তুলে নিয়ে যান। এ ঘটনায় রাতে রামপুরা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। তবে পুলিশ অভিযোগটি রেখে দেয়।
শাহ আলমের শ্যালক বাবুল হোসেন বলেন, ‘সিএনজির চালক আমাদের জানান যে শাহ আলমকে ডিবি পরিচয় দিয়ে সিএনজি থেকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। আমরা থানায় অপহরণের লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিশ আমাদের অভিযোগটি রেখে দেয়। আজ (গতকাল শনিবার) শাহ আলমের মৃত্যুর খবর জানালে পুলিশ অপহরণের মামলা রুজু করে বলে শুনেছি।’
তবে রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, শাহ আলমকে অপহরণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে।
নিহত শাহ আলমের ভাই সাটুরিয়া ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহবুব হাসান বলেন, ‘সকাল আটটার দিকে কয়েকজন লোক ভাইয়ের গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে আমাকে জানান। আমি এরপর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। বিকেলে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। রাতে লাশ দাফনের পর থানায় মামলা করা হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকের শেষ দিকে শাহ আলম চলচ্চিত্রের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি সবার উপরে মা, প্রেমের পাগল ও প্রেমের স্মৃতি নামে তিনটি ছবি প্রযোজনা করেন। ১৯৯১ সালে তিনি রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদ সরকারের আমলে তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ১৭ বছর ধরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিলেন। নিহত শাহ আলম উপজেলার নৈকাঠী গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলী খানের ছেলে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর উল গীয়াস প্রথম আলোকে বলেন, শাহ আলমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মাথায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। শাহ আলমের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0