জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স নামের বিমা কোম্পানির সাবেক মাঠকর্মী সাজেদা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা বলছেন, ওই মাঠকর্মীর চাকরি ছাড়ার বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। তিনি কিস্তি আদায় করলেও কোম্পানির কাছে জমা দেননি।

গ্রাহক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান রাজ মাহমুদের স্ত্রী সাজেদা বেগম ২০০৫ সালে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ‘জনপ্রিয় বিমা’ প্রকল্পের একজন মাঠকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী হওয়ার সুবাদে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সবার আস্থা অর্জন করেন। তিনি পাঁচ শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। এসব গ্রাহকের কিস্তির প্রায় ১০ লাখ টাকা তিনি বিমা কোম্পানির কাছে জমা দেননি। বিমা কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তবে সাজেদা বেগম বিষয়টি না জানিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরের দিকে তাঁরা টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন। টাকা ফেরতের দাবিতে গত শনিবার বিকেলে গাইবান্ধা ইউনিয়নের নাপিতের চর বাজারে সমাবেশ করেন ভুক্তভোগী শতাধিক গ্রাহক।

গাইবান্ধা গ্রামের মহসিন কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ৪ বছরে ৪৭ হাজার টাকার কিস্তি দিয়েছি। কিন্তু সাজেদা বেগম বিমা কর্তৃপক্ষের কাছে মাত্র ২৪ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। আমাদের বিমা বইয়ে তিনি স্বাক্ষর করে টাকা নিয়ে গেছেন। বাকি টাকা তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। আমার মতো পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের ১০ লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর স্বামী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রাজ মাহমুদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু দিচ্ছেন না।’

এ বিষয়ে জানতে গতকাল সাজেদা বেগমের মুঠোফোনে ফোন দিলে ধরেন তাঁর স্বামী রাজ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী সব টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু ওই কোম্পানির কর্মকর্তারা টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর সমাধান করা হবে।’

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সার্ভিস সেলের কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাজেদা বেগম ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তাঁর টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে কোনো গ্রাহক যদি অভিযোগ দেন, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। সত্যতা পাওয়া গেলে ওই মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে কোম্পানির পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0