পরদিন ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল ও হাসপাতালটির প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‍্যাব।

হাসপাতাল থেকে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট জব্দের ঘটনায় র‍্যাব বাদী হয়ে সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

ঘটনার পর থেকে সাহেদ পলাতক ছিলেন। ২০২০ সালের ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা থেকে তাঁকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের কথা জানায় র‍্যাব।

সাহেদকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁকে উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে ধরা হয়। তিনি কোমরপুর সীমান্ত দিয়ে নৌকায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গ্রেপ্তারকালে সাহেদ জিনসের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গোঁফ কেটেছিলেন। সাদা চুল করেছিলেন কালো।

গ্রেপ্তারকালে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাতক্ষীরার দেবহাটা থানায় সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে র‍্যাব।

গ্রেপ্তারের পর সাতক্ষীরা থেকে হেলিকপ্টারে সাহেদকে ঢাকায় আনা হয়।

আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সাহেদকে সঙ্গে নিয়ে ২০২০ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সাহেদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়।

পরে সাহেদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক মামলা হয়। সারা দেশে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগরের ১ নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ২০২০ সালের ৩০ জুলাই সাহেদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল পুলিশ। ১৯ আগস্ট অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। আর ২৭ আগস্ট সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাহেদের বিরুদ্ধে ৩৯টি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে র‍্যাব, থানা-পুলিশ, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বাকি ৩৮টি মামলায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ গঠন হয়নি।

করোনার নমুনা পরীক্ষা, চিকিৎসা খরচ বাবদ সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় চলতি বছরের ১২ জুন সাহেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬। সরকারের ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের এই মামলায় আগামী ৪ জুলাই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাহেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের একটি, চুরির অভিযোগে একটি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলার তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। এই মামলা তিনটি ২০২০ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে হয়েছিল। মানি লন্ডারিং ও চুরির মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটি তদন্ত করছে দুদক।

সিআইডির সেন্ট্রাল ক্রাইমের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাহেদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের একটিসহ দুটি মামলা এখনো তদন্তাধীন।

মানি লন্ডারিং আইনে সাহেদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক (ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে সাহেদের ৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা অপরাধলব্ধ আয়ের তথ্য পেয়েছেন। করোনা পরীক্ষা না করেই সনদ দিয়ে ও পূর্বাচলের জলসিঁড়ি প্রকল্পে বালু সরবরাহের কথা বলে তা না দিয়ে এ অর্থ আত্মসাৎ করেন সাহেদ।

মানি লন্ডারিং আইনের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে বলে দাবি করেন মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, শিগগির এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

সাহেদের বিরুদ্ধে দুদকে একটি মামলা তদন্তাধীন থাকার কথা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থার মহাপরিচালক (বিশেষ) সাঈদ মাহবুব খান। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাহেদের বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন