বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন আসিফ। অন্যদিকে আসিফের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে ও তিনজনকে খালাসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন সিফাতের পরিবার। এসবের শুনানি শেষে ২৬ আগস্ট আদালত ৬ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বাতিল করে ওই রায় দেওয়া হয়।

আদালতে আসিফের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন মীরধা। এ ছাড়া আদালতের অনুমতি নিয়ে সিফাতের বাবা আমিনুল ইসলামও শুনানিতে অংশ নেন।

পরে আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় বাতিল করে হাইকোর্ট মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। তিন মাসের মধ্যে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ কে মামলাটির বিচার শেষ করতে বলা হয়েছে। তা না হলে আসামি আসিফ জামিন চাইলে তা বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অপর তিন আসামিকেও ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বলা হয়েছে।’

২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরের মহিষবাথান এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছেন বলে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করেন। এ ঘটনায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাতের শরীরে নির্যাতনের আঘাতের চিহ্ন নেই এবং তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এই ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক হলেন জোবাইদুর রহমান। সিফাতের পরিবার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে। দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার প্রথমে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে দেওয়া হলেও পরে সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

২০১৬ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১ ধারায় এবং সিফাতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ও ৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। এই মামলায় ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেন বিচারিক আদালত। ঘটনার পর থেকে আসিফ কারাগারে আছেন।

আসিফের আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ জানান, ‘মামলায় আসিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় ও অপর তিনজনের বিরুদ্ধে ১১(ক)/৩০ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে ১১(ক) ও ৩০ ধারার অভিযোগ থেকে সবাইকে খালাস দেওয়া হয়। তবে হত্যায় প্ররোচনার দায়ে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় আসিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। অথচ ৩০৬ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেননি। তাই ওই ধারায় সাজা প্রদান যুক্তিযুক্ত নয়। এসব দিক বিবেচনা করে আদালত মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন