default-image

রহিমা বেগম যেই অ্যাসিডে ঝলসে গেছেন, সেই অ্যাসিড তাঁর সাবেক স্বামী কিনেছিলেন পুলিশের এক সোর্সের কাছ থেকে। রহিমার স্বামী ৫০০ টাকা দিয়ে তাঁর কাছ থেকে এক মগ অ্যাসিড কিনেছিলেন।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় সেই সোর্স মো. আজাদকে কল্যাণপুরের নতুনবাজার বস্তি থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তিনি মিরপুর থানার সোর্স।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আশরাফুল করিম আজ প্রথম আলোকে বলেন, রহিমার স্বামী আবদুল আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবদুল আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ৫০০ টাকার বিনিময়ে তিনি আজাদের কাছ থেকে এক মগ অ্যাসিড কিনেছেন। তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আছেন। আজ জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল আলীর কাছে অ্যাসিড বিক্রির কথা স্বীকার করেন আজাদ।

বিজ্ঞাপন

মামলার কাগজপত্র এবং ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ বছর আগে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল আলীর সঙ্গে ভুক্তভোগী রহিমা বেগমের বিয়ে হয়। তবে তাঁদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় গত ১ আগস্ট রহিমা বেগম আবদুল আলীকে তালাক দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন আবদুল আলী। ৯ নভেম্বর ভোরে ভুক্তভোগী রহিমা মিরপুরের হাসপাতালের কাজ শেষে ফেরার পথে যখন বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছান, তখন আবদুল আলী রহিমা বেগমের পিঠে ও মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মেরে পালিয়ে যান। রহিমাকে প্রথমে নেওয়া হয় মিরপুরের একটি হাসপাতালে। পরে তাঁকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। অ্যাসিডে তাঁর শরীরের ১৬ শতাংশ পুড়ে যায়।

মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকা থেকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার হন আবদুল আলী (৪৯)। পরদিন তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।

মন্তব্য পড়ুন 0