বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদরে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান আলী খন্দকারের বাসায় ককটেল
হামলা চালানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পাল্টা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এ সময় ইটের আঘাতে পৌর যুবলীগের সভাপতি মশিউর রহমানসহ তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে। র্যাব-বিজিবির তল্লাশির সময় উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি তাজা ককটেল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেলা পৌনে ১২টার দিকে সোনাতলা পৌর এলাকার ঘোড়াপীরে পিকেটিং করছিল বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় হরতাল-অবরোধ সমর্থকেরা দুই ভ্যানচালককে মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হরতাল-সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। হরতাল-সমর্থকেরা এ সময় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহজাহান আলী খন্দকারের বাসায় ককটেল হামলা করে। আওয়ামী লীগের কর্মীরাও উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুন্সী, পৌর যুবলীগের সভাপতি মশিউর রহমান, যুবলীগের কর্মী কামরুল ইসলাম আহত হন। মশিউর রহমানকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল তৈয়ব ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিনা উসকানিতে হরতাল-সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল করিম ঘটনার জন্য পাল্টা বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করে বলেন, হরতালের নামে নিরীহ দুই ভ্যানচালককে মারধর করায় হরতাল-সমর্থকদের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে সর্বস্তরের জনতা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ কারণেই তাঁরা আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁদের বাড়িঘরে বোমা হামলা করেছে।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও পাঁচজনকে আটক করেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন