দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলায় এক স্কুলছাত্রসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার ও গত শুক্রবার লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। আমাদের আঞ্চলিক কার্যালয়, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
নিহত ব্যক্তিরা হচ্ছেন ঝিনাইদহ শহরের নতুন কোর্টপাড়া এলাকার গৃহবধূ মিনা খাতুন (৪৫), বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্র ইমরান হোসেন (১৫) ও খুলনার রূপসা উপজেলার রামনগর এলাকার শাহাদাত হোসেন (৩০)।
ঝিনাইদহ: পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিনা শহরের নতুন কোর্টপাড়া এলাকার এক বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার দুপুরে স্বামী মিজানুর রহমান গ্রামের বাড়ি যশোরের চৌগাছায় বেড়াতে যান। তাঁর ছেলে আলামিন হোসেন জুমার নামাজ পড়তে বাইরে যান। নামাজ শেষে বাড়িতে এসে বাইরে থেকে ঘর তালা দেওয়া দেখে অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর তিনি তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তাঁর মাকে মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
বরিশাল: বানারীপাড়া থানা-পুলিশ জানায়, বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামের ইমরানকে বাড়িতে রেখে তাঁর বাবা মজিবর রহমানের চিকিৎসার জন্য পরিবারের লোকজন ঢাকায় যায়। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ইমরানের মুঠোফোন নম্বরে ফোন দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পান পরিবারের সদস্যরা। এরপর থেকে ইমরানের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি তার পরিবার। গতকাল শনিবার সকালে ইমরানের পরিবার ঢাকা থেকে ফিরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের একটি ডোবার মধ্যে বিছানার তোশক প্যাঁচানো অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ তোশকে প্যাঁচানো অবস্থায় ইমরানের লাশ উদ্ধার করে। লাশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রায় তিন দিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে। সে বাইশারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
খুলনা: লবণচরা থানার বান্ধা এলাকার একটি চালকলের পরিত্যক্ত শৌচাগার থেকে শাহাদাত হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লবণচরা থানার ওসি সরদার মোশারফ হোসেন বলেন, শাহাদাত মাদকাসক্ত হয়ে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যান। তিনি আলামিন, রবিউল, ইনসান, শরিফুল নাইম হাওলাদার ও সুমন হাওলাদার নামে কয়েকজনের সঙ্গে এসব কাজ করতেন। একপর্যায়ে তিনি সবার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার রাতে শাহাদাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ওই শৌচাগারে ফেলে রাখা হয়। পরিত্যক্ত ওই শৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে শাহাদাতের গলিত লাশ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা শাহজাহান খান বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও দু-তিনজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি ইনসানকে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ইনসান ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান ওসি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0