সান্তাহার জংশন স্টেশনের মাস্টার নিজাম উদ্দীনের বিরুদ্ধে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারিতে বিক্রি করতে না পেরে ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর সেগুলো বুকিং অফিসে ফেরত দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব ঘটনা ঘটে। চার মাস আগে টিকিট কালোবাজারির ঘটনায় নিজামের বিরুদ্ধে সান্তাহার জিআরপি থানায় মামলা করেন দুই যাত্রী।
তবে নিজাম উদ্দীন দাবি করেছেন, ভিআইপি শ্রেণি ও আত্মীয়স্বজনের জন্য কিছু টিকিট সংরক্ষণ করা ও ফেরত দেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। টিকিটগুলো তিনি তাঁর আত্মীয়দের জন্য রেখেছিলেন। তাঁরা যাত্রা বাতিল করায় টিকিট ফেরত দিয়েছেন।
ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজাম উদ্দীন গত বৃহস্পতিবার আন্তনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেসের কয়েকটি টিকিট বুকিং অফিস থেকে সংগ্রহ করেন। শুক্রবার দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর দ্রুতযান ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের ছয় ঘণ্টা বিলম্বে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সান্তাহার স্টেশন ছেড়ে যায়। এরপর নিজাম উদ্দীন অবিক্রীত সাতটি টিকিট বুকিং অফিসে ফেরত দিতে যান। তাৎক্ষণিক তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন কিছু যাত্রী। খবর পেয়ে সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাসেম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জার্জিস আলম যাত্রীদের শান্ত করেন এবং মুঠোফোনে বিষয়টি রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ও বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকে জানান। রেলওয়ে কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
গত বছরের ২১ অক্টোবর স্টেশনমাস্টার নিজামের কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রি নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। মামলা হয় সান্তাহার রেলওয়ে থানায়। কিন্তু সরকারদলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে মামলাটি ধামাচাপা পড়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রেল কর্মচারী অভিযোগ করেন, স্টেশনমাস্টার নিজাম মূল্য পরিশোধ না করেই প্রতিদিন প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করেন। সেগুলো বিক্রির জন্য তাঁর লোকজন রয়েছে।
বুকিং ক্লার্ক জাহাঙ্গীর আলম জানান, শুক্রবার স্টেশনমাস্টার ট্রেন বিলম্ব দেখিয়ে টিকিটগুলো ফেরত দেন।
রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সুজিত কুমার সাহা বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। স্টেশনমাস্টারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন