নওগাঁর বদলগাছিতে এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম বেগম খাতুন। গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে উপজেলার মিঠাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় গ্রামবাসী বেগম খাতুনের স্বামী নুরু মিয়াকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে সোপর্দ করে। মিঠাপুর ইউপির সচিব আঞ্জুমান আরা জানান, তিনি সকাল ১০টায় কার্যালয়ে গিয়ে দেখেন নুরু মিয়াকে কার্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তিনি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন।

বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক বলেন, লাশের গলায় দাগ রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। আটক নুরু মিয়াকে আপাতত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন সূত্র জানায়, সোমবার সকালে নুরু মিয়ার (৫০) স্ত্রী বেগম খাতুন (৪২) সকালে ভাত রান্নার জন্য তরিতরকারি কাটছিলেন। এ সময় নুরু মিয়া মিঠাপুর বাজার থেকে বাড়িতে আসেন। কিছুক্ষণ পরেই নুরু মিয়া তাঁর স্ত্রী বেগম গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে নুরু মিয়া তাঁর স্ত্রীর লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে চলে যান।

প্রতিবেশী চার-পাঁচজনের ভাষ্যমতে, তরকারি কাটার সময় নুরু মিয়ার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর ঝগড়া বাধে। নুরু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। নুরু মিয়া নিজেই ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে শোবার ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে গেলে নুরু মিয়া কৌশলে পালিয়ে যান। কিন্তু প্রতিবেশী বিরু হোসেন স্থানীয় মিঠাপুর বাজার থেকে নুরু মিয়াকে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁকে মিঠাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সোপর্দ করা হয়।

নুরু মিয়ার প্রতিবেশী বিরু হোসেন জানান, নুরু মিয়া তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি নুরু মিয়াকে মিঠাপুর বাজার থেকে আটক করেন। সেখান থেকে নুরু মিয়াকে ইউপি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।

ইউপি কার্যালয়ে আটক থাকা অবস্থায় নুরু মিয়া প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করেননি। গলায় রশি দিয়ে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। প্রতিবেশী চঞ্চলের বউ শারমিন আক্তার বাড়িতে এসে রশিটি কেটে তাঁর স্ত্রীকে মাটিতে নামিয়ে রাখেন।

শারমিন আক্তার বলেন, ‘নুরু মিয়া তাঁর বাড়িতে চিৎকার করছিল। আমিসহ অন্যরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বেগমকে উঠানে পড়ে থাকতে দেখি। আমি নুরুর স্ত্রীর লাশ রশিতে ঝুলতে দেখিনি।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন