default-image

১৪ বছর আগে রাজধানীর শাহ আলী এলাকায় এক গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রোকসানা বেগম আজ সোমবার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত আসামি এসাদুল হক মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথিপত্র বলছে, ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর শাহ আলী এলাকার একটি বাসা থেকে ফেরদৌস আরা লিপির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর ভাই জমির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে শাহ আলী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামি এসাদুল হক মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল আজাদ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি এসাদুল হক রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি বায়িং হাউসে চাকরি করতেন। এসাদুলের সঙ্গে ফেরদৌস আরা লিপির বিয়ে হয় ২০০৪ সালের ১৬ নভেম্বর। এরপর শাহ আলী এলাকায় বাসা ভাড়া নেন এই দম্পতি। এসাদুল হক সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতেন। আর বাসায় ফিরতেন রাতে।

বিজ্ঞাপন

যে বাসায় তাঁরা ভাড়া থাকতেন, তাঁর পাশেই দুজন আত্মীয় ভাড়া থাকতেন। ওই দুজন এসাদুলের সম্পর্কে বিয়াই হতেন। এসাদুল যখন বাসায় থাকতেন না, তখন তাঁরা মাঝেমধ্যে তাঁর বাসায় আসতেন এবং তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে গল্পগুজব করতেন। এ নিয়ে এসাদুল তাঁর স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন। এই সন্দেহের জেরেই তিনি তাঁর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেন। এ ঘটনা আড়াল করার জন্য মিথ্যা নাটক সাজান আসামি এসাদুল হক।

স্ত্রীর আত্মীয়স্বজনের কাছে আসামি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে অন্য কেউ হত্যা করে মালামাল লুট করেছে। কিন্তু সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই বাসার মালামাল লুট হয়নি। আসামি এসাদুল তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছেন।

সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল আসামি এসাদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নয়জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি এস এম জাহিদ সরদার। আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী আজিম উদ্দিন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন