ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বেজপাড়া গ্রামে গত মঙ্গলবার রাতে দীপিকা মণ্ডল (২৫) নামের এক নারীকে স্বামী ও পরিবারের লোকজন পিটিয়ে আহত করেছেন। গুরুতর অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দীপিকা মণ্ডলের বাবার বাড়ি শৈলকুপা উপজেলার বাদালসো গ্রামে। বাবা গোপীনাথ মণ্ডল মারা গেছেন অনেক আগে। একমাত্র মেয়ে দীপিকাকে অনেক কষ্টসৃষ্টে লালনপালন করেন মা দিপালী মণ্ডল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দীপিকা মণ্ডল বলেন, আট বছর আগে তাঁকে কালীগঞ্জের বেজপাড়া গ্রামের সঞ্জয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের সংসারে সাথি মণ্ডল নামে চার বছরের একটি মেয়ে আছে। দরিদ্র হওয়ায় তাঁর মা সঞ্জয়কে কিছু দিতে পারেননি। এ জন্য প্রায়ই তাঁকে অত্যাচার সহ্য করতে হতো। কয়েকবার তাঁকে মায়ের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেন স্বামী, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্যরা। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে টাকার জন্য বাড়ির সবাই তাঁকে লাঠি দিয়ে বেদম পেটান। মাটিতে ফেলে তাঁকে লাথি মারা হয়। চিৎকার শুনে তাঁর প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।
দীপিকার শাশুড়ি ঊষা রানি বিশ্বাস বলেন, ‘ছেলে ভুল করে ফেলেছে। বিষয়টি আর বাড়ানো ঠিক হবে না।’
সুন্দরপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, দীপিকাকে যেভাবে মারপিট করা হয়েছে, তা সহ্য করার মতো না। তাঁকে হাসপাতালে নিতে দিচ্ছিল না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তিনি জোর করেই হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আলমগীর আরও বলেন, মেয়েটির মা খুব গরিব। মেয়েকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার ভাড়ার টাকাও তাঁর কাছে নেই।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন