default-image

পরিবারিক কলহের একপর্যায়ে মেয়েকে ছুরিকাঘাত করেন তাঁর স্বামী। তা দেখে ঠেকাতে আসেন মেয়ের মা পারভীন আক্তার। তিনিও হামলার শিকার হন। মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি। আর এ ঘটনার দুদিন পর আজ শুক্রবার আহত অবস্থায় মারা গেলেন পারভীন।

ফরিদগঞ্জ থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়পুর উপজেলার শায়েস্তানগর গ্রামের মনতাজ মাস্টারের ছেলে আল মামুন মোহনের সঙ্গে ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া গ্রামের সেলিম খানের মেয়ে তানজিনা আক্তারের বিয়ে হয়। গত বুধবার বিকেলে মামুন শ্বশুরবাড়ি আসেন। সেখানে ইফতারের সময় তানজিনার সঙ্গে তাঁর কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে মামুন তানজিনাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করেন।

তখন তানজিনার মা পারভীন আক্তার (৪৫) ও ভাই প্রান্ত (১৭) চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে মামুন তাঁদেরও আহত করেন। পরে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে মারধর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোতে ‘স্ত্রী খুন, স্বামী গ্রেপ্তার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

আহতদের ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পারভীন আক্তারকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকা নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ফরিদগঞ্জ থানা–পুলিশ তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

খুনের ঘটনায় আটক আল মামুন মোহনকে (৩২) বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় তানজিনার স্বামী আল মামুনকে প্রধান এবং তাঁর ভাই ও বোনকে আসামি করে নিহত তানজিনার চাচা লিয়াকত খান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0