বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় হরতাল ডেকে মাঠে ছিল না বিএনপি ও জামায়াত। অন্যদিকে কয়েক শ নেতা-কর্মী নিয়ে সান্তাহার শহরের দলীয় কার্যালয়ে খিচুড়ি উৎসব করেছে আওয়ামী লীগ।

হরতালে বিএনপি, জামায়াত মাঠে না থাকায় দিনভর শহর দখলে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

হরতালের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাঠে না থাকার বিষয়ে সান্তাহার পৌর বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মোহাম্মাদ কামরুল হাসান বলেন, সারা দেশে সরকার নানাভাবে নির্যাতন জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশি নির্যাতন, হামলা ও মামলার ভয়ে নেতা-কর্মীরা সন্ত্রস্ত থাকায় কর্মসূচি পালনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এখন কিছু সমস্যা থাকলেও সামনের দিনে সবাই মিলে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, দেশের মানুষ আর হরতাল-নৈরাজ্য চায় না। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ দলে দলে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে আসছে। এ কারণে হরতালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ পথে নেমে এসেছে। এসব সাধারণ মানুষ নিয়ে খিচুড়ি উৎসব করা হয়েছে।

সান্তাহার শহরের মুদি দোকানদার মাসুদ রানা তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, হরতাল মানেই ক্ষতি, আর এ ক্ষতি কোনো ব্যাক্তি বা দলের নয়। হরতাল কারও কাম্য নয়, মানুষ ভয়ে বাধ্য হয়ে হরতাল করে। তিনি বলেন, হরতালে বিএনপি, জামায়াত মাঠে না থাকা এবং আওয়ামী লীগের খিচুড়ি উৎসব হরতালের বিরুদ্ধে জনগণের রায়।

শহরের রিকশাচালক জালাল হোসেন বলেন, ‘আমিও খিচুড়ি খেতে গিয়েছিলাম, কারণ আমরা কেউ আর হরতাল চাই না।’

হরতালের সময় সকাল থেকেই ভারী যানবাহন ছাড়া সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করেছে। শহরের সব দোকানপাট খোলা ছিল। সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে সব ট্রেন ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন