নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা বাজারে যুবলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় দুই পক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছররা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইমাম হোসেন (২০), আকবর হোসেনসহ (২৫) আটজনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং জাহাজমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলন (২১ মার্চ) উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ালী উল্লা অনুসারী যুবলীগের নেতা-কর্মীরা জাহাজমারা বাজারে বিকেলে মিছিল ও সমাবেশ করেন। এর এক দিন পর ১৮ মার্চ রাত আটটার দিকে হাতিয়ার সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলীর অনুসারী ইউনিয়ন যুবলীগের কর্মীরা বাজারে পাল্টা মিছিল বের করেন। মিছিলটি জাহাজমারা বাজারের দক্ষিণ দিকে গেলে ইটপাটকেল ছুড়ে মারা হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষে সংঘর্ষ বাধে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে হাতিয়া থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও দুই পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে বাজারে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলীর অনুসারী ও জাহাজমারা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান মাছুম বিল্লাহ গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তাঁর লোকজন শনিবার সন্ধ্যায় মিছিল শেষে বাজারে আলোচনা সভা করছিলেন। হঠাৎ সাবেক চেয়ারম্যানের লোকজন আলোচনা সভায় অতর্কিতে হামলা ও শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে কমপক্ষে ১৪-১৫ জন আহত হন।
অবশ্য হাতিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতির অনুসারী জাহাজমারা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজ উল্লা বলেন, তাঁরা শুক্রবার বাজারে মিছিল করেছিলেন। পরদিন মাছুম বিল্লার লোকজন মিছিল করার কারণে দলীয় লোকজনকে বাজারের এক পাশে একটি চা দোকানে বসে ছিলেন। সেখানে প্রতিপক্ষ গিয়ে অতর্কিতে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ৯-১০ জন আহত হন।
এ বিষয়ে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. শাহজালাল প্রথম আলোকে বলেন, বাজারে পুলিশ মোতায়েন আছে। দুই পক্ষকে বাজারে কোনো কর্মসূচি পালন না করতে বলা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন