default-image

রাজশাহীতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শাহ্‌ মখদুম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনিরুজ্জামান ওরফে স্বাধীনকে প্রধান আসামি করে গতকাল শুক্রবার রাতে নগরের চন্দ্রিমা থানায় মামলাটি হয়। রাতেই এমডির স্ত্রী মোছা. বিউটি ও এমডির ভাই মাহাদী হাসান ওরফে মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা আজ শনিবার সকাল থেকে কলেজের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে নগরের চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা করেছেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মামলার প্রধান আসামি মনিরুজ্জামানকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তিনি পলাতক। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দুপুরেই আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আজ সকালে নগরের খড়খড়ি এলাকায় অবস্থিত শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। তাদের সঙ্গে অভিভাবকেরাও এসেছেন। পাশে পুলিশ রয়েছে। তবে যাঁরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছিলেন, তাঁদের কাউকে কলেজ চত্বরে দেখা যায়নি। কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দু-একজনকে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নীলফামারী থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী বলেন, শুক্রবারের হামলার ছবি তুলতে গেলে কলেজের কর্মচারীরা তাঁর মুঠোফোনটি নিয়ে ভেঙে ফেলেন। এখানে শিক্ষার কোনো পরিবেশ নেই। তাদের মাইগ্রেশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যে দল কলেজ পরিদর্শনে এসেছেন, তাঁরা শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনেছেন। নভেম্বর মাসের শুরুতে মন্ত্রণালয় থেকে এই কলেজে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত অন্য মেডিকেল কলেজের মাইগ্রেশন করার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজ মন্ত্রণালয় থেকে কলেজ পরিদর্শনে আসবে শুনে আগের দিন শুক্রবার কিছু শিক্ষার্থী খোঁজ নিতে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রী তাঁদের হোস্টেলে জামাকাপড় নিতে ঢুকেছিলেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মেডিকেল কলেজের এমডি মনিরুজ্জামানসহ কর্মচারীরা বাঁশ ও লোহার রড দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পিটিয়ে আহত করেন। হামলাকারীরা ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিও করেছেন বলে তাদের অভিযোগ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছবি তুলতে গেলে তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। মারধর করে তাঁদের মেডিকেল কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে আহত অবস্থায় অন্তত ১২ শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আটজনের মধ্যে তিনজনকে আজ সকালে শাহ্‌ মখদুম মেডিকেল কলেজের পরিদর্শন টিমের সঙ্গে কথা বলার জন্য নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁদের আবার হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মন্তব্য করুন