default-image

বাগেরহাটের চিতলমারীতে ইতি বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার কুনিয়া গ্রামের সদর আলী মীরের বাড়ি থেকে গতকাল বুধবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইতি বেগম স্থানীয় জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। দুই মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়। পরিবার ও পুলিশ সূত্র বলেছে, ইতিকে হত্যার ঘটনার দুই দিন আগে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় প্রতিপক্ষরা এ হামলা চালায় বলে গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছিলেন ওই গৃহবধূ।

ইতি বেগম মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইকবাল, সফিক ও ফেরদৌস আলমের নেতৃত্বে এলাকার ২৫ থেকে ৩০ লোক সোমবার দুপুরে হঠাৎ তাঁদের বাড়িতে ঢুকে সবাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। ঘরে ঢুকে সবকিছু ভাঙচুর করে।

নিহত গৃহবধূ ইতির ননদ সৈয়দা সুলতানা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত সোমবার চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর বাবা সদর আলী নোয়াখালীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে আটকা পড়েছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যানবাহন বন্ধ থাকায় এলাকায় ফিরতে পারেননি। বাড়িতে রয়েছেন কেবল তাঁর দুই ভাবি ও ভাইয়ের ছেলে। সেই সুযোগে ভাঙচুর চালানো হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাঁরা জরুরি জাতীয় সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চান। কিন্তু সে সময় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চিতলমারী থানায় মামলা করেন সৈয়দা সুলতানার আরেক ভাইয়ের স্ত্রী সানজিদা বেগম।

সৈয়দা সুলতানা বলেন, ‘যখন ওসি স্যার জানতিছে, এসপি স্যার জানতিছে একটা বাড়িতে দুই দিন ধরে হামলা, ভাঙচুর হচ্ছে। নারীদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, সেখানে কি দুটা পুলিশ থাকতে পারত না। গ্রামের চকিদারও তো ডিউটিতে থাকতে পারত। পুলিশ আগে ব্যবস্থা নিলে এই হত্যাকাণ্ড হতো না।’

এ বিষয়ে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেন, মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা গৃহবধূ ইতিকে জবাই করে হত্যা করেছে। পুলিশ গতকাল দুপুরে নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0