default-image

পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা মিথ্যা বলে দাবি করছেন তাঁরা। এ মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হেলালউদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে। হাসপাতালের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপকের কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে তালা লাগিয়ে দেন প্রায় ৫০ জন। পরে হাসপাতালের পরিচালক বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মসূচি স্থগিত করেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা। তাঁরা এ সময় তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে সরকারি কমকর্তাকে গ্রেপ্তারের যথাযথ ব্যাখা দান, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সসম্মানে চাকরিতে পুনর্বহাল, মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাকে উপস্থিত কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস প্রভৃতি।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচি স্থগিত হওয়ার পর হাসপাতালের পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, রেজিস্ট্রারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি পরে জেনেছেন। পুলিশের ওই কর্মকর্তার চিকিৎসা ও ভর্তির সঙ্গে রেজিস্ট্রার জড়িত ছিলেন না। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার করা যায় না। পুলিশ যেসব তথ্য দিয়েছে, তা ঠিক নয়। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত চারটার দিকে তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে তুলে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হত্যাকাণ্ডে যুক্ত নন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হতে পারে না।

২০০ শয্যার মানসিক এই হাসপাতালের একাংশ কর্মসূচিতে যোগ দেন। অন্যরা চিকিৎসাসেবা চালিয়েছেন। হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, চিকিৎসক ও নার্সেরা অবস্থান কর্মসূচি নিলেও সে সময় চিকিৎসার কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। কারণ, বেশির ভাগ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী কর্তব্যরত ছিলেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিম মৃত্যুর ঘটনায় ১০ নভেম্বর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের করা কমিটির সদস্য সহযোগী অধ্যাপক হেলালউদ্দিন আহমেদও একই কথা বলেন।

গত সপ্তাহে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড সাইকিয়াট্রি অ্যান্ড ডি-অ্যাডিকশন হাসপাতালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আনিসুল করিমকে মারধর করে হত্যা করার অভিযোগে হাসপাতালের মালিকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0