চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় গত রোববার এক কেজি ৭০০ গ্রাম হেরোইনসহ মিশন (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে মিশনকে সহযোগিতার অভিযোগে উপপরিদর্শক (এসআই) তোবারক হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মিশনের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বালুহারা তিতপুর উত্তরপাড়া গ্রামে। আর তোবারক আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. কামরুজ্জামান রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দামুড়হুদা থানার পুলিশকে নিয়ে স্থানীয় পূর্বাশা পরিবহন কাউন্টারে অভিযান চালান। সেখানে একটি কালো ব্যাগে রাখা ওই হেরোইনসহ মিশনকে আটক করা হয়। অভিযানের আগে থেকেই কাউন্টারে অবস্থানকারী তোবারক তাঁর খালাতো ভাই দাবি করে মিশনকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন। এএসপি কামরুজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে তোবারকের আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেন এবং দুজনকেই থানায় নিয়ে যান। বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়ার পর সন্ধ্যায় দামুড়হুদা থানার এসআই আফজাল হোসেন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মিশনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। পরে রাত আটটার দিকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তোবারককে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মো. কামরুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, হেরোইন পাচারকারী যুবককে আটকের সময় তোবারক উপস্থিতি হয়ে ওই যুবককে খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে তদবির করেন। এ কারণে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে প্রথমে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
মো. কামরুজ্জামান আরও জানান, অধিকতর তদন্তের জন্য খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে হেরোইন পাচারের এসআইয়ের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার মো. রশীদুল হাসান প্রথম আলোকে জানান, মিশনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। কিন্তু হরতালের কারণে শুনানি না হওয়ায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন