বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধরপাকড় অব্যাহত আছে। বুধবার রাত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৩টি জেলা থেকে ১৮৮ জনকে আটক করে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিনিধিরা বিস্তারিত জানিয়েছেন।
ঢাকার আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শিবিরের ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক সভাপতি বছির আহাম্মেদকে (৩২) এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর কাছ থেকে পুলিশ পেট্রলবোমা ও ককটেলসহ গান পাউডারের মতো বস্তু উদ্ধার করেছে। মৌলভীবাজারে গাড়ি ভাঙচুর মামলায় জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল মৌলভীবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মইনুল ইসলাম (৩৬) এবং ছাত্রদলের কর্মী সুয়েব মিয়াকে (৩০) বুধবার রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বুধবার রাতে বিএনপির চার কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রাজশাহীর চারঘাট থেকে যুবদলের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ (৩০) তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ কর্মী-সমর্থককে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নবীনগর এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম নামে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাও রয়েছেন।
সাতক্ষীরায় নাশকতার আশঙ্কায় জামায়াতের তিন কর্মীসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় মঙ্গলবার রাতে ট্রাকে পেট্রলবোমা হামলা ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের মামলায় ছাত্রদল ও যুবদলের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হরতাল ও অবরোধে নাশকতা হওয়ার মামলায় বিএনপি-জামায়াতের আট নেতা-কর্মীসহ ৮৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গাইবান্ধার সাত উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১৩ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাসহ ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সিরাজগঞ্জ শহর জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলামসহ (৪১) তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি অভিযানে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইদুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং বিএনপি-জামায়াত শিবিরের নেতা-কর্মীসহ ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, ময়মনসিংহে ২, ফেনীতে ১ ও নেত্রকোনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন