default-image

ঢাকার নবাবগঞ্জে দোকান দখলের অভিযোগে আটকের ১৫ ঘণ্টা পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পলাশকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পলাশকে আটক করে পুলিশ। পরদিন গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পলাশসহ তাঁর সহযোগীরা উপজেলার বাঘমারা এলাকার একটি ফুলের দোকান দখল করতে মালামালসহ ওই দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় মার্কেটের মালিকপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পলাশ ও তাঁর লোকজন পালিয়ে যান। পরে রাত ৯টার দিকে নবাবগঞ্জ থানা–পুলিশ পলাশকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা রশিদ শিকদার বলেন, ‘২০১২ সালের ২৭ মার্চ বাঘমারায় কাশিমপুর মৌজায় হাবিবা আক্তারের মালিকানাধীন ১৯ শতাংশ পুকুরের জায়গা ক্রয় করে সেখানে চারটি দোকান নির্মাণ করি। কিন্তু হাবিবার পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়েছেন এমন একটি লিখিত নেন পলাশ। পরে শুক্রবার বিকেলে তাঁর (পলাশ) বাহিনী নিয়ে তিনি ওই মার্কেটের ভাড়াটিয়া ফুল ব্যবসায়ী শহিদের দোকানটি দখল করতে আসেন। একপর্যায়ে তাঁরা মালামালসহ দোকানটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পলাশ ও তাঁর লোকজন পালিয়ে যান।’

বিজ্ঞাপন

রশিদ শিকদার আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার বড় ভাই জসিম শিকদার বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগে ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী লোকজনের দাপট ও হুমকির কারণে পলাশের নাম দিতে সাহস পাননি আমার ভাই। তবে পুলিশ পলাশকে আটক করেও ১৫ ঘণ্টা পর থানা থেকে ছেড়ে দেয়। এ ছাড়া আমাদের জমিটি নিয়ে হাবিবার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলছে।’

তবে পলাশ বলেন, ‘ওই জমির প্রকৃত মালিক হাবিবার আত্মীয় পনির হোসেন। পনির হোসেন তাঁর মার্কেটের একটি দোকান আমাকে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ভাড়া দিয়েছেন। দোকানটি আমি বুঝে নিতে যাই। এ সময় জমিটির মালিক দাবিদার রশিদ ও তাঁর পরিবারের লোকজন এসে পুলিশ নিয়ে আমাদের বাধা দেন। পরে ঘটনা সম্পর্কে জানার জন্য পুলিশ আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর থানা থেকে চলে আসি। ভবিষ্যতে আমি বক্সনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন করব। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।’

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

সহকারী পুলিশ সুপার (দোহার সার্কেল) এস এম জহিরুল ইসলাম বলেন, পলাশকে আটক করা হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল।

মন্তব্য পড়ুন 0