ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নেতা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল হোসেন হত্যা মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। ২৪ আসামির ১৭ জনকে বাদ দিয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার পুলিশ ২৪ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
রেজাউল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, হুমায়ন কবির, সবুজ মিয়া, বাপ্পি হোসেন, বিপুল হোসেন ও আবদুস সালামের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এজাহারে থাকা অপর ১৭ জনের নাম বাদ দেয় পুলিশ।
মামলার বাদী আবুল হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, পুলিশ অর্থের বিনিময়ে এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবান্বিত হয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে দিনের বেলায় তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তা অনেকেই দেখেছেন। আর কারা চক্রান্ত করে হত্যা করিয়েছেন, সেটাও সবার জানা। তার পরও পুলিশ সেসব আসামির নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে।
সাইদুর রহমান বলেন, পুলিশ এমনটি করবে, এমন খবর তারা আগে থেকেই পেয়েছিলেন। যে কারণে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বরাবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো ফল মেলেনি। তাঁদের ধারণাই সঠিক হয়েছে। তিনি বলেন, যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা পুলিশের সামনেই সভা-সমাবেশ করেছেন; যা সংবাদপত্রে ছবিসহ ছাপাও হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করেনি।
জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হরিনাকুণ্ডু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গুলফামুল ইসলাম বলেন, বাদীর অভিযোগ ঠিক নয়। অর্থ-বাণিজ্য বা রাজনৈতিক প্রভাবে এই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের নামেই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাদী চেয়েছিলেন তাঁর বাবার যাঁরা শত্রু, তাঁদের সবাইকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত করতে, সেটা করলে হাস্যকর হতো।
২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর দখলপুর বাজারে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেনকে (৪৮) দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা চালিয়ে ও কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মশিউর রহমান জোয়ারদার, পৌরসভার মেয়র শাহিনুর রহমান, দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলী ওরফে বুড়ো মেম্বর, থানা কমিটির সহসভাপতি আজগর আলী, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আয়ুব হোসেন, একই ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ওরফে মিঠুসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সক্রিয় কর্মীও ছিলেন। মামলা দায়েরের পর একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনা তদন্ত করেছেন। সব শেষে এসআই গুলফামুল ইসলাম তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন