চট্টগ্রামের আসকার দীঘিরপারে গত বছরের ৭ জানুয়ারি হরতাল চলাকালে পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলা ও নাশকতার মামলায় ১৮ শিবির নেতা-কর্মীকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।
মামলার এজাহারে রয়েছে, গত বছরের ৭ জানুয়ারি হরতাল চলাকালে নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করে শিবির। পুলিশ বাধা দিলে আসকার দীঘিরপার এলাকায় পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে দুটি ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় পুলিশ শটগান থেকে গুলি করলে সাইফুল ইসলাম নামের এক শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, সন্ত্রাস দমন আইন, বিস্ফোরক ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মহানগর ছাত্রশিবিরের ১৮ নেতা-কর্মীকে আসামি করে একটি অভিযোগপত্র আদালতে এসেছে। অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন এখনো ধার্য হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কামরুজ্জামান জানান, তদন্তে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়ে মারার ঘটনায় শিবিরের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাই তাদের আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মামলায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষী রাখা হয়েছে।
১৮ আসামির মধ্যে মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল হক, মহানগর উত্তরের সভাপতি আ স ম মাশরুর হোসাইন, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক এস এইচ সোহেল, ইসলামী শ্রমিক ফেডারেশন নগর শাখার সভাপতি লুৎফুর রহমান, শিবির চট্টগ্রাম কলেজ শাখার সভাপতি রুকন উদ্দিন, শিবির হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজ শাখার সভাপতি নাছির উদ্দিন, শিবির কোতোয়ালি থানা শাখার সভাপতি মাহাবুবুর রহমান ও শিবির নেতা সাইদুর রহমান। বাকি নয়জন শিবিরের কর্মী।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কোনো আসামির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে কি না, জানতে চাইলে কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কেউ আদালতে জবানবন্দি দেয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও তদন্তে আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন