এই অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে ভুয়া সেনা কর্মকর্তাসহ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে তারা। আটক ব্যক্তিরা হলেন সামসুজ্জোহা, আলমগীর ও শামীম। তাঁদের কাছ থেকে সেনাবাহিনীর একটি ভুয়া পরিচয়পত্র, বিজিবির দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র, তিনটি ভুয়া নিয়োগপত্র, ১৬ পাতা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, একটি ব্যাংক চেক ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১–এর পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন। তিনি বলেন, আটক সামসুজ্জোহা কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাকরিপ্রত্যাশী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সুকৌশলে পরিচিত হতেন। বলতেন, তাঁর পরিচিত কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর বেসামরিক পদে চাকরি দেবেন। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।

আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, টাকা নেওয়ার পর চাকরিপ্রত্যাশীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলে ঢাকায় আনা হতো। সেনা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) পরিচয় দেওয়া আটক আলমগীর ভুয়া সেনা কর্মকর্তা শামীমের সঙ্গে দেখা করাতে চাকরিপ্রত্যাশীদের সেনানিবাসের কাছাকাছি বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। এরপর চাকরিপ্রার্থীকে সেনাবাহিনীর মনোগ্রামসহ ভুয়া নিয়োগপত্র তুলে দিতেন তাঁরা। নিয়োগপত্রে চাকরিপ্রার্থীর নাম-ঠিকানা, স্বাক্ষরসহ নিয়োগপত্রের পেছনে আঙুলের ছাপ নিয়ে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি চলে যেতে বলতেন। নির্ধারিত সময়ে নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের নিয়োগপত্র ভুয়া।

র‌্যাব কর্মকর্তা মোমেন বলেন, আটক সামসুজ্জোহা চক্রের মূল হোতা। তাঁর নামে ইতিপূর্বে অস্ত্র, নারী নির্যাতন, প্রতারণা ও মাদকসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ২০১৫ সালের দিকে সামসুজ্জোহার সঙ্গে আলমগীর ও শামীমের পরিচয় হয়। দুজনই কম্পিউটার প্রিন্ট ও ফটোকপি দোকানের মালিক। তাঁদের দোকানে চাকরির আবেদন করতে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমেই তাঁরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির তথ্য সংগ্রহ করতেন। এমনকি সেসব চাকরিপ্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে টার্গেট করতেন তাঁরা। সামসুজ্জোহা শুরু থেকেই নিজেকে বিজিবির সদস্য হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। ফলে অনেকেই চাকরির আশায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন