চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ নেতা-কর্মীকে গতকাল সোমবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকি এবং উপাচার্যের দপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফটকে তালা লাগানোর ঘটনায় চার সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গত রোববার ভোরে ছাত্রলীগের ভিএক্স (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) এবং সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) ও ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়। দিনভর এ নিয়ে চলে উত্তেজনা। এতে আহত হন চার কর্মী। পরে শাহজালাল ও শাহ আমানত হলে তল্লাশি চালিয়ে দুই পক্ষের ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন শিক্ষার্থী তাপস সরকার।

হাটহাজারী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন প্রথম আলোকেবলেন, ৬১ জনকে আটক না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো। এ জন্য তাদের ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছিলেন সোহেল খান ও কাউসার মিয়া। তাঁরা তাপস হত্যা মামলার আসামি। তাঁদেরও গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জেলা কোর্ট পরিদর্শক উনু মং প্রথম আলোকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কুদরত ই এলাহীর আদালতে নেওয়া হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রোববারের সংঘর্ষের সময় শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি, ক্যাম্পাস ক্লাব ও শিক্ষকদের বাসায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং উপাচার্য দপ্তরসহ বিভিন্ন ফটকে তালা লাগানোর ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে। এর প্রধান করা হয়েছে আইন অনুষদের ডিন আবদুল্লাহ আল ফারুক ও সদস্যসচিব করা হয়েছে সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ ইয়াকুবকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন শহীদ আবদুর রব হলের প্রাধ্যক্ষ রাশেদ উন নবী ও স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মনিরুল হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিরাজ উদ দৌল্লাহ প্রথম আলোকেবলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরদিন গতকাল শাটল ট্রেন চললেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। হরতালের কারণে ক্লাস হয়নি। 

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন