default-image

নজরুল ইসলাম একসময় চট্টগ্রাম জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কার্যালয়ের শিকলবাহক (চেইনম্যান) ছিলেন। ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকেসহ তিনজনকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এরপর তাঁর কর্মস্থল হয় ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদে। কিন্তু এরপরও নিজেকে বদলাননি তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নজরুল ইসলাম ধরা পড়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৯১ লাখ টাকার কমিশনের চেক, নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা।

চট্টগ্রাম নগরের শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার ‘আনুকা’ নামের একটি কাপড়ের দোকান থেকে নজরুলকে আটক করা হয়। ওই দোকানসহ এ শপিংমলে তাঁর ইয়ানা নামের একটি কাপড়ের এবং আরেকটি খাবারের দোকান আছে। একই সময়ে ওই দোকানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী তছলিম উদ্দিনকেও সেখানে পাওয়া যায়। তাঁর পকেটে ৫৭ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। তবে তসলিম দাবি করেন, তিনি কাপড় কিনতে সেখানে এসেছেন। কিন্তু দুদকের কর্মকর্তারা জানান, তিনিও একই চক্রের সদস্য। তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা পান, সেই টাকা ছাড় করাতে কমিশন দিতে হয়। আর এ কমিশনের ভাগ অনেকেই পান। সেই কমিশন তোলার কাজটি করতেন নজরুলসহ জড়িত অন্যরা। অগ্রিম কমিশনের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চেক ও টাকাগুলো নেওয়া হয়েছে। তছলিম উদ্দিনও তাঁর সঙ্গে কাজ করতেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সমন্বিত জেলা-২ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ। তিনি নজরুলের কাছ থেকে চেক ও টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নজরুলকে আটক করা হয়েছে। তছলিম উদ্দিনকে এখনো আটক দেখা হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দোকানের দুজন কর্মচারীকেও দুদক কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশ না করে দুদকের কর্মকর্তারা জানান, এ চক্রকে কমিশন না দিলে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়া যেত না। ক্ষতিপূরণের অন্তত ১৩ শতাংশ টাকা তাঁদের দিয়ে দিতে হতো। তবেই পাওয়া যেত ক্ষতিপূরণের টাকা।

একই সময়ে দোকানের সিসি ক্যামেরাসহ কাগজপত্রও জব্দ করে নিয়ে যান দুদকের কর্মকর্তারা। এ সময় দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে খবর আসে, চট্টগ্রাম নগরে নজরুলের মালিকানাধীন কয়েকটি ফ্ল্যাট আছে। একটি ফ্ল্যাট থেকে নগদ টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এরপর দুদকের আরেকটি দল তাঁর ফ্ল্যাটের সন্ধানে বের হন।

নজরুল আজ অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিলেন বলে জানান ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফিন। তিনি বলেন, ‘নজরুলের আটকের বিষয়টি জানি না। আমি একটি সভায় ছিলাম। খবর নিয়ে দেখছি।’

দুদকের হাতে আটক থাকার সময় নজরুলের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। নজরুল ৩০ হাজার টাকা বেতন পান বলে প্রথম আলোকে জানান। তিনটি দোকানের মালিক কীভাবে হলেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি কি ফকিরের ছেলে নাকি? বাড়িতে আমার অনেক জায়গা–সম্পত্তি আছে।’ জমি অধিগ্রহণের নানা কাগজ ও চেকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো তাঁরা (ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি) রেখে গেছেন। আমি এখনো দেখিনি।’

অন্যদিকে, তছলিম উদ্দিন দাবি করেন, তিনি কাপড় কিনতে সেখানে এসেছেন। ৫৭ হাজার টাকা কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বাকিতে একটি মুঠোফোন কিনেছিলেন। সেই টাকা শোধ করার জন্য টাকাগুলো সঙ্গে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0