বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ওই ব্যক্তি জানান, ২২ ডিসেম্বর তাঁর স্ত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাঁরা থানায় যান। টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা তাঁদের নাওয়াখাওয়া হয়নি। ২৩ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি একবার থানা চত্বরের কাছে একটি দোকান থেকে পানি কিনতে যান। এ সময় তাঁর হাতে অপরিচিত এক ব্যক্তি একটি চিঠি ধরিয়ে দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় মামলা করার সময় তিনি চা খেতে বাইরে যেতে চান। দোকান থেকে এক কাপ রং চা খেয়ে ১০০ টাকার নোট বাড়িয়ে দিলে দোকানি তাঁকে ৩০ টাকা ফেরত দেন। বাকি টাকা চাইলে দোকানি বলেন, তাঁর সঙ্গে থাকা কনস্টেবল মিজান ও তাঁর সঙ্গীর চা–সিগারেটের খরচ রাখা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা যে ব্যক্তি তাঁকে চিরকুট ধরিয়ে দিয়েছিলেন, তিনিই কনস্টেবল মিজানের সঙ্গে ছিলেন। আর এই কনস্টেবলই সার্বক্ষণিক তাঁদের পাহারা দিচ্ছিলেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে বাদী বলেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুলিশি হেফাজত থেকে বেরিয়ে সবকিছু বলবেন। তাঁর চাপেই স্ত্রী আদালতে মিথ্যা জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ভালো কাজে যুক্ত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন। তবে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তাঁর স্ত্রীর সামনে কোনো পুলিশ ছিল না। একজন পুলিশ সদস্যসহ তিনি বাইরে ছিলেন, স্ত্রী ভেতরে ছিলেন।

মামলা নিতে টাকা, চা–নাশতার খরচ নেওয়া, উড়ো চিঠি দেওয়া ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের সখ্য কেন—এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজার থানার ওসি শেখ মুনীরুল গিয়াস প্রথম আলোকে বলেন, এমন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই। এই দম্পতির দেখভালের দায়িত্ব একজন নারী কনস্টেবলের ওপর ছিল। তাঁরা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন।

৯৯৯–এ ফোনের কথা স্বীকার

স্ত্রী অপহরণের শিকার হওয়ার পর বাদী ৯৯৯–এ ফোন করলেও পুলিশের তরফ থেকে অস্বীকার করা হচ্ছিল। তবে আজ জাতীয় জরুরি সেবা হেল্পডেস্কের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. তবারকউল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী নারী ফোন করেছিলেন। আর ২২ ডিসেম্বর মামলার বাদী ফোন করেছিলেন। তিনি তিনটি ফোন ব্যবহার করেন। এর একটি থেকে ২২ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৩২ মিনিটে একটি ফোন আসে। সেখানে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ৯৯৯-এ ফোন ধরে তাঁকে থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে বলা হয়েছিল।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার বাদী জানাননি যে তাঁর স্ত্রীকে কেউ অপহরণ করেছে। তা ছাড়া ৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী নারী একবার ৯৯৯–এ ফোন করেন। তিনি ওই সময় তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন।

কক্সবাজারের জীবন ভালো লাগেনি ভুক্তভোগী নারীর

মামলার বাদীর সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয় বছর দুয়েক আগে। বাদী পেশায় রাজমিস্ত্রি। সে সময় তাঁরা ঢাকার কাছে একটি জেলায় থাকতেন। ভুক্তভোগী নারীর বয়স যখন দুই বছর, তখন তাঁর মা মারা যান। এর পর থেকে তিনি তাঁর বোনদের কাছে থাকতেন। বিয়ের পর পরিবার তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। সে সময় তিনি জানতেন না, তাঁর স্বামীর আগে একজন স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে।

default-image

মাস তিনেক আগে বাদী কক্সবাজারে ‘ভাগ্য ফেরাতে’ যান। প্রথম আলোকে মামলার বাদী একটি পরিচিতিমূলক কার্ড বের করে দেন। ওই কার্ডে তিনি নিজের নাম লিখেছেন মো. রবিন। নামের নিচে লেখা—ফেরাটন হোটেল, লাইট হাউস, কক্সবাজার।

বাদী জানান, আদতে ফেরাটন নামে কোনো হোটেল নেই। এই কার্ড দেখিয়ে তিনি পর্যটকদের বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতেন, এর বদলে হোটেলগুলো থেকে কিছু কমিশন পেতেন। স্ত্রী–সন্তানকে নিয়ে কিছুদিন পরপর নতুন নতুন হোটেলে গিয়ে উঠতেন। এমন একটি হোটেলে ঘটনার আগের দিন তাঁর অনুপস্থিতিতে ধর্ষণ মামলার ১ নম্বর আসামি আশিকুল ইসলাম (আশিক) ঢুকে পড়েন। এতে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আশিকুলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। আশিকুল তাঁদের থেকে চাঁদা চান। এ সময় তাঁরা সন্তানের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখালে আশিকুল তাঁদের এক হাজার টাকাও দেন। পরদিন আশিকুল ও তাঁর বাহিনী তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী নারী প্রথম আলোকে বলেন, একেক দিন একেক হোটেলে থাকার বিষয়টি তাঁর ভালো লাগছিল না। স্বামীর এই পেশাও তাঁর পছন্দ হচ্ছিল না। স্বামী বলেছিলেন, যে কাজ তিনি করছেন, তা লাভজনক, টাকাপয়সা জমিয়ে তাঁরা ঢাকায় ফিরে যাবেন। স্বামী একপর্যায়ে কক্সবাজারে বাসা ভাড়া নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তিনি তারপরও আর কক্সবাজারে থাকবেন না বলে জানিয়ে দেন।

ওই নারী আরও বলেন, তাঁর সন্তানের হৃদ্‌যন্ত্রে ছিদ্র আছে। চিকিৎসায় লাখ তিনেক টাকা লাগবে। কক্সবাজারে যাওয়ার পর রোগটি ধরা পড়লে তাঁরা ঢাকায় জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান সন্তানকে। চিকিৎসক ছয় মাসের ওষুধ দিলে কক্সবাজারে ফিরে যান।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই নারী বলেন, তিনি এর আগেও একবার স্বামী ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। সে সময় তিনি ও তাঁর স্বামীর বন্ধুদের স্ত্রীর নামে মামলা হয়। পরদিন তাঁরা জামিনে বেরিয়ে আসেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন