'অস্ত্র বানায়ে না দিলি চাকরি থাকবে না'

বিজ্ঞাপন
default-image
>
  • যশোরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্রের কারখানা আবিষ্কার
  • অস্ত্র-গুলিসহ তিনজনকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত
  • আটক কামরুল নামের একজনের সঙ্গে সাংবাদিককের কথোপকথন

যশোরে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে একটি বাড়িতে এ কারখানা আবিষ্কার করেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, পিস্তল তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলাম (৫০), তাঁর স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা (৩৫) ও ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়ার আবুল বাশার (৪০)। আটক কামরুলের বাড়িতেই অস্ত্র তৈরি করা হতো। আটক কামরুল যশোরের এক সাংবাদিককে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, তাঁর কাছ থেকে এসব অস্ত্র যশোর কোতোয়ালি থানা ও শার্শা থানার অনেক এসআই ও এএসআই কিনতেন।

default-image

কামরুল ও ওই সাংবাদিকের কথোপকথন
কোন কোন দারোগা আপনার কাছ থেকে অস্ত্র নিতেন?
কামরুল: দারোগা এজাজ, আমিনুর, হাসান, খবির, কালামসহ কতজনকে তো দিছি। অস্ত্রপ্রতি (ওয়ান শুটারগান) ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আবার কেউ একটু বেশিও দিত।

সবচেয়ে বেশি দিয়েছেন কোন দারোগাকে?
কামরুল: তার নাম বলা তো ঠিক হবে না। বোঝেন না, সবাই তো নেছে কমবেশি। সেটার তো হিসাব নেই, কিডা কয়ডা নেছে।

পুলিশকে কত পিস অস্ত্র বানায়ে দিয়েছেন?
কামরুল: তার হিসাব নেই। ১০-১৫ পিস তো হবেই।

পুলিশকে না বানায়ে দিলে কী সমস্যা হতো?
কামরুল: ওরে বাবা! সব সময় বাড়ি যায় না পুলিশ। তারা বলত, কেস হয়ে গেছে; অস্ত্র বানায়ে না দিলি চাকরি থাকবে না।

অস্ত্র বানানো কেমনে শিখলেন?
কামরুল: এমনি ওয়ান শুটারগান দেখে খুলে শিখিলাম। তবে আজকের এই অস্ত্রটা আমার তৈরি না। ভাঙাচোরা একটা এক জায়গা পাইলাম, তাই পালিস করতিলাম।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের জানামতে পুলিশের কোনো সদস্য এমন অবৈধ অস্ত্র কারবারের সঙ্গে জড়িত নেই। তারপরও যদি কারও বিরুদ্ধে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন