নাটোরে আজ মঙ্গলবার বিএনপির এক নেতা ও বণিক সমিতির নির্বাহী সদস্য আবদুস সালাম গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দুপুরে সদর হাসপাতালের সামনে এক যুবক তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যান। ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, গুলি করার সময় ওই যুবক আবদুস সালামকে বলেন, ‘আঙ্কেল! ওপর থেকে আপনাকে খুন করার হুকুম হয়েছে, তাই মারছি।’

ঘটনার পরপরই পথচারীরা আবদুস সালামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নাটোর সদর থানা পুলিশ জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টায় আবদুস সালাম নীচাবাজারের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান (ফেন্সি বেকারি) থেকে মোটরসাইকেলে করে মল্লিকহাটির বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে সদর হাসপাতালের সামনের রাস্তায় পৌঁছালে এক যুবক তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ মল্লিকহাটি মহল্লার সাগর মণ্ডলকে আটক করেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ডাববিক্রেতা জানান, ২০-২২ বছর বয়সী ওই যুবক তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুপুরে আবদুস সালাম ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ওই যুবক তাঁকে আঙ্কেল সম্বোধন করে থামতে বলেন। আবদুস সালাম মোটরসাইকেল থামালে ওই যুবক বলেন, ‘আঙ্কেল! ওপর থেকে আপনাকে খুন করার হুকুম হয়েছে, তাই মারছি।’ এ কথা বলেই পিস্তল উঁচিয়ে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যান ওই যুবক। গুলিটি বাম পায়ের ঊরুতে লাগলে আবদুস সালাম মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। পরে পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাম পায়ের ঊরুতে গুলি লেগেছে। আমরা এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছি। তাঁকে বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আটক সাগর মণ্ডলের ছেলে সাজ্জাদ মণ্ডল এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা তাকে ধরার চেষ্টা করছি।’ আহত আবদুস সালামের সঙ্গে তাদের টাকা–পয়সা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

নাটোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক জানান, আহত আবদুস সালাম জেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং নাটোর শিল্প ও বণিক সমিতির নির্বাহী সদস্য।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন