default-image

পেট্রলবোমার নৃশংসতা মাত্র তিন মাস বয়সেই এতিম করে দিল ফুটফুটে ইসরাফিলকে। বছর দেড়েক আগে শ্রমজীবী যুবক হাসিবুর রহমান ওরফে হাসিবের সঙ্গে বিয়ে হয় ইয়াসমিন বিজলীর। তাঁদের ঘর আলো করে আসে শিশু ইসরাফিল। টানা এক মাসের অবরোধ-হরতালে প্রায় বেকার হয়ে পড়েছিলেন বাবা হাসিব। সংসারেও টানাটানি শুরু হয়। স্ত্রী-সন্তানের শুকনো মুখ সইতে না পেরে ঝুঁকি নিয়েই কাজে বের হন। আর ফিরলেন না।
নাটোরে পণ্য খালাস করে বগুড়ায় ফেরার পথে গত শনিবার রাতে ট্রাকে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হন হাসিব। রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। দগ্ধ আরও তিনজন ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের মর্গে স্বামীর লাশ দেখে স্তব্ধ হয়ে যান ইয়াসমিন বিজলী। স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করতেই ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকেন। কিছুক্ষণ পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, ‘কোলের মাসুম ছলডার কী হবে? কে দেখবে হামার ছলডাক?’
ওই পেট্রলবোমায় দগ্ধ ট্রাকচালক গোলাম মোস্তফার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশই পুড়েছে। হাসপাতালে স্বামীর বিছানার পাশে কাঁদছিলেন স্ত্রী গোলাপী বেগম। একপর্যায়ে বললেন, ‘হরতালত গাড়ি চলিচ্চে না। কামাই বন্ধ। চারডা ছল (সন্তান)। বাড়িত ভাত হয় না। সপ্তাহে বারো শ টেকা কিস্তি। কিস্তি লিবার অ্যাসে স্যারেরা বাড়িত বসে থ্যাকে। অপমান করে, গালি দেয়। তুলে লিয়ে যাবার ভয় দেকায়। কিস্তির টেকার জন্যি টেরাক লিয়ে ভয়ে ভয়ে রাস্তায় বার হলো। সেডাই কাল হলো।’
গোলাম মোস্তফা কাঁপা কণ্ঠে বলেন, বগুড়া থ্যাকে ময়দার টিপ লিয়ে নাটোর যাই। ফিরার সাহস হচ্চিল না। দু দিন নাটোরেই গাড়ির সিটত শুয়ে থ্যাকলাম। শনিবার সন্ধ্যায় সাহস করে বগুড়াত রওনা দেই। সিংড়াত অ্যাসে ওঠে দুজন সবজি ব্যবসায়ী। আর ১৫ মিনিট হলেই বাড়িত পৌঁছি। কিন্তু তা হলো না। ১০-১২ জন রাস্তার দুপাশ থ্যাকে দুডা পেট্রলবোমা মারল। তারপর সব শ্যাষ।’
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অস্থায়ী বার্ন ইউনিটের রেজিস্ট্রার শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানালেন, ‘গোলাম মোস্তফার শরীরের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ এবং সবজি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও আজিজের শরীরের গড়ে ২০ শতাংশ পুড়েছে। ৭২ ঘণ্টা পার না হলে কাউকে শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।’

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন