নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুই চোখ উপড়ানো শিশু সুমনের (৪) গলা কাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আটক শিশু রবিন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সে গতকাল বুধবার জেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম চাঁদনী রূপমের আদালতে ওই জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে রবিন জানায়, চোখের জন্য সুমনকে তার (রবিনের) বাবা কাঞ্চন মিয়া হত্যা করেছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে রবিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রবিন ফতুল্লার রেললাইন এলাকার দিনমজুর কাঞ্চন মিয়ার ছেলে। সে একটি ভাঙাড়ি দোকানে কাজ করে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার রেললাইন এলাকার শিখা রানীর বাড়ির ভাড়াটিয়া কাঞ্চনের বাঁ চোখ নষ্ট। কিন্তু টাকার অভাবে তার চোখের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। কাঞ্চনকে এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, কেউ যদি তাকে (কাঞ্চন) একটি চোখ দেয়, তাহলে তার চোখ ভালো হয়ে যাবে। গত রোববার প্রতিবেশী নুরুদ্দিনের ছেলে সুমনের সঙ্গে বাড়ির পাশের মাঠে রবিন খেলছিল। এ সময় রবিনকে কাঞ্চন তাঁর কাছে সুমনকে রেখে যেতে বলে। পরে কাঞ্চন শিশু সুমনকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। সেখানে সুমনের চোখ দুটি খুলে রেখে তাকে গলা কেটে হত্যা করে কাঞ্চন। এরপর তার লাশ ফতুল্লার পোস্ট অফিস এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফেলে রেখে চলে যান কাঞ্চন। তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আশীষ কুমার দাস জানান, চোখের জন্য নৃশংসভাবে সুমনকে তার বাবা হত্যা করেছে বলে রবিন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। রবিনের বাবা কাঞ্চনকে গ্রেপ্তার করতে পারলে সুমনকে গলা কেটে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন