চট্টগ্রামে গত শুক্রবার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনামুল কবিরসহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের দাবি, এতে বড় ধরনের নাশকতা থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম নগর।
গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা এই গ্রেপ্তার ও নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
কোতোয়ালি থানা ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নাশকতার বার্তা নিয়ে এনামুল ১২ ফেব্রুয়ারি ট্রেনে চড়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসেন। গত শুক্রবার তাঁকেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুজন হলেন মোহাম্মদ মোস্তফা (২৮) ও মুশফিক আবরার মাহিন (২০)। মোস্তফা শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) শাখার পাঠাগার সম্পাদক। মুশফিক জামায়াতের দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড শাখার অর্থ (বায়তুল মাল) সম্পাদক। তাঁর বাবা মহিবুল হক ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা। মহিবুল হকের বাকলিয়ার বগারবিলের বাসা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনামুল বলেন, চলমান আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির বার্তা নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে আসেন। কেন্দ্রীয় সভাপতির চিঠি চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শাহ মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের ডিপোসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন স্থাপনা ও বাসে আগুন দেওয়ার বার্তা নিয়ে এনামুল চট্টগ্রামে আসেন। ব্যাপক নাশকতা চালিয়ে চট্টগ্রামকে টালমাটাল করার পরিকল্পনা ছিল জামায়াত-শিবিরের। এনামুলকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা নেই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়ের পর চট্টগ্রামে যেভাবে লোকজনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, এবারও সে পরিকল্পনা ছিল শিবিরের। কেন্দ্রীয় সভাপতির চিঠিতে সেই রকম বার্তা ছিল।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে এনামুলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠকের আগে এনামুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আমরা তাঁকে নিয়ে সাতকানিয়া, সীতাকুণ্ড ও হাটহাজারীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি।’ ওসি বলেন, ‘চট্টগ্রামে এসেই ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ফয়’স লেক এবং আরও দুটি মেসে এনামুল বৈঠক করেন। নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বৈঠকগুলো হয়।’
পুলিশ জানায়, শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির ওই চিঠি উদ্ধার করা যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ হাছান।
এনামুল কবির ও মোহাম্মদ মোস্তফাকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন