ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী বাজারে গত বুধবার রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রফিকুল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা করেছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলাও রয়েছে, যাতে ওই বাজারের আশপাশের বাসিন্দাদের আসামি করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তারুজ্জামান মামলাগুলো নথিভুক্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মামলার চার আসামির নাম জানালেও বাকিদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতের ঘটনায় বিস্ফোরক আইন, অস্ত্র আইন এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া রফিকুল নিহত হওয়ার ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সাতজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের নামে আরেকটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। সাতজনের মধ্যে চারজনের নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মো. হীরা মিয়া, জমিস উদ্দিন, মতি মিয়া ও খোকন। তাঁরা সবাই স্থানীয় সোহাগী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহত রফিকুলের সহযোগী বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এসব মামলায় কাউকেব গ্রেপ্তার করা হয়নি।
চারটি মামলারই বাদী হয়েছেন ওসি আক্তারুজ্জামান নিজেই। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করার পরও কেন হত্যা মামলা করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধেই রফিকুল নিহত হয়েছেন। তবে কার গুলিতে নিহত হয়েছেন, সেটা নিশ্চিত নয়। এ কারণেই হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
পুলিশের ভাষ্যমতে, বুধবার রাত দেড়টার দিকে সোহাগী বাজারের একটি চায়ের দোকান থেকে কথিত মাদক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামকে আটক করে গাড়িতে তুলছিল ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ। এ সময় তিনি কোমর থেকে পিস্তল বের করে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁর সহযোগীরাও পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় থানার ওসি আক্তারুজ্জামান নিজের পিস্তল বের করে নয়টি গুলি ছুড়লে প্রতিপক্ষ পিছু হটে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় রফিকুল গুলিতে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রফিকুলকে ওই চায়ের দোকানের ভেতরেই পুলিশ গুলি করে। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে নিয়ে চলে যায়। আর নিহত রফিকুলের স্ত্রী রজনী আক্তারের অভিযোগ, তাঁর স্বামীকে পুলিশ ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন