কুমিল্লা ও যশোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লা: সদর দক্ষিণ উপজেলায় গতকাল দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তির নাম কালা স্বপন (৩৫)। তিনি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বাড়ি সদর দক্ষিণ উপজেলার রামপুর গ্রামে। সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোস্তাক মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণের পর হত্যা, অস্ত্রসহ ২৮টি মামলা রয়েছে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রশান্ত পালের ভাষ্য, গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে আদর্শ সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকা থেকে স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে নামে পুলিশ। সদর দক্ষিণ উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় পৌঁছালে স্বপনের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন স্বপন। ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। স্বপনের লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

যশোর: সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক যুবক নিহত হয়েছেন। র‍্যাবের দাবি, নিহত ব্যক্তির নাম মেহেদি হাসান ওরফে রাজু (২৫)। তিনি শহরের নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু সড়কের বাসিন্দা আজিবর রহমানের ছেলে। রাজু একজন ভাড়াটে খুনি। তাঁর নামে হত্যাসহ সাতটি মামলা রয়েছে।

তবে পরিবারের দাবি, গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে রাজুকে তুলে নেন র‍্যাব-৬-এর সদস্যরা। বন্দুকযুদ্ধের নামে রাতে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

র‍্যাব-৬-এর উপপরিচালক মেজর আশরাফুজ্জামানের ভাষ্য, রাজুকে রাত নয়টার দিকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে মধ্যরাতে তাঁকে নিয়ে রাতে কাজীপুর গ্রামের একটি ইটভাটায় অস্ত্র উদ্ধারে যায় র‍্যাব। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া তাঁর সহযোগীরা র‍্যাবকে দেখে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাব চারটি গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থলে রাজুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি বন্দুক ও ২৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। রাজুর লাশ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত রাজুর বোন শারমিন বেগম অভিযোগ করেন, গতকাল রাত আটটার দিকে তাঁর ভাইকে বাড়ি থেকে তুলে নেয় র‍্যাব। এ সময় রাজুকে মারধরও করা হয়। পরে র‍্যাব-৬-এর ক্যাম্পে যান পরিবারের সদস্যরা। র‍্যাবের পক্ষ থেকে তাঁদের বলা হয়, রাত ১২টার দিকে রাজুকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন