বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আসাদুল ইসলাম আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ছয় বছর ধরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীর (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) কাজ করে আসছেন তিনি। বিকেল থেকে তিনি হাসপাতালের জরুরি আউটডোরে রোগীদের ট্রলিতে করে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। এ কাজের মাধ্যমে তিনি রোগীদের কাছে থেকে বকশিশের নামে অর্থ আদায় করতেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে গাইবান্ধার সাঘাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কিশোর বিকাশ চন্দ্র কর্মকারকে (১৫) আনা হয়। আসাদুল তাকে ট্রলিতে করে তিনতলায় সার্জারি বিভাগে নেন। পরে ওই রোগীর স্বজনদের কাছে তিনি ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করেন। চাহিদামতো বকশিশ না পেয়ে তিনি রোগীর মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেন। এরপর রোগী বিকাশ চন্দ্র কর্মকার মারা গেলে তিনি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

বগুড়া আদালতের পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি এসব তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার বিকেলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক আসাদুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসাদুলের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুমিরাডাঙ্গায়। তাঁর বাবার নাম জয়নুদ্দিন মীর। গত বুধবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় পেনাল কোডের ৪০৩ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। পরে র‍্যাব আসাদুল ইসলামকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

default-image

এদিকে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারামতে, অপরাধজনক নরহত্যা বলে গণ্য নয় এ রকম কোনো বেপরোয়া বা তাচ্ছিল্যপূর্ণ কাজ করে যদি কোনো ব্যক্তি কারও মৃত্যু ঘটায় সে ব্যক্তি পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এ বিষয়ে বগুড়া আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হেলালুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মুখ থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মাস্ক খুলে ফেললে এবং সেই কারণে রোগী মারা গেলে এটা হত্যাকাণ্ড। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করা যেত। রোগীর মুখ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে মাস্ক খুলে ফেলা কোনোভাবেই অবহেলাজনিত মৃত্যু নয়।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠনের পর আমরা তৎক্ষণাৎ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। পুলিশ কেন অবহেলাজনিত মৃত্যুর ধারায় মামলা রেকর্ড করল, সে ব্যাপারে হাসপাতাল প্রশাসনকে কিছুই জানানো হয়নি।’

তবে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা বলেন, রোগীর মুখ থেকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেললেও এটা অবহেলাজনিত মৃত্যু।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিকাশ গাইবান্ধার একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় বিকাশ বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে বিকাশকে বগুড়ায় নেওয়া হয়। চিকিৎসক রোগীকে জরুরি সেবা দিয়ে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করে দেন। হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুল রোগীকে সার্জারি ওয়ার্ডে নিয়ে যান। শয্যা ফাঁকা না থাকায় তাকে মেঝেতে শয্যা দেন তিনি। পরে রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনের কাছে টাকা চান আসাদুল। তাঁর কাছে ১৫০ টাকা ছিল। তাই তিনি আসাদুলকে ১৫০ টাকা দেন। তখন আসাদুল আরও টাকা দাবি করেন। ওই স্বজন বলেন, তাঁর কাছে আর টাকা নেই। তখন আসাদুল উত্তেজিত হয়ে বিকাশের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেন, গালাগালি করেন। এরপরই শ্বাসকষ্টের কারণে বিকাশ মারা যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন