বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বরিশালে যেসব অগ্নিকাণ্ড ঘটছে, এর বেশির ভাগই হচ্ছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট ও গ্যাসের চুলা থেকে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় ২০২০ সালে ৬১০টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আর এই অগ্নিকাণ্ডের ৪৮ শতাংশই হয়েছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে। এরপরই রয়েছে গ্যাসের চুলার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। গত বছরের ৬১০টি অগ্নিকাণ্ডে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭ কোটি ১০ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। দগ্ধ হয়ে একজন মারা যান ও আটজন আহত হন। এই সময়ে ৪৮ কোটি ৮৫ লাখ ২৪ হাজার টাকার মালামাল রক্ষা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের সচেতনতাই কেবল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজন প্রশিক্ষণের।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, দুর্ঘটনার মধ্যে বৈদ্যুতিক গোলযোগে ২৯১টি, চুলা (ইলেকট্রিক, গ্যাসের, মাটির ইত্যাদি) থেকে ১৫০টি, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৬৮টি, উত্তপ্ত ছাই-জ্বালানি থেকে ৮টি, খোলা বাতির (মোম) ব্যবহার থেকে ৯টি, ছোটদের আগুন নিয়ে খেলা থেকে ১৪টি, যন্ত্রাংশের ঘর্ষণজনিত ২টি, শত্রুতামূলক ১টি, বজ্রপাত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ১টি, স্বতঃস্ফূর্ত প্রজ্বালন থেকে ২টি, চিমনির স্ফুলিঙ্গ থেকে একটি, স্থির বিদ্যুৎ থেকে ২টি, বিস্ফোরণ (সিলিন্ডার, বয়লার ইত্যাদি) থেকে ৭টি, যানবাহনের দুর্ঘটনাজনিত ১৭টি। তবে ৪১টি অগ্নিকাণ্ডের কারণ শনাক্ত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

বরিশাল বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপপরিচালক এ বি এম মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানুষের সচেতনতা। একই সঙ্গে বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বেশি বেশি মহড়া এবং প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও তার ইত্যাদি ব্যবহারের সময় পণ্যমান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। বাড়িঘর ও কলকারখানায় অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। কোথাও আগুন লাগলে সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে জানালে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

মমতাজ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এখন অনেক পরিবারে এলপি গ্যাস দিয়ে রান্না করা হয়। এ জন্য গ্যাসের লাইন, চুলা, সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্ক হওয়া জরুরি। গ্যাসের সংযোগ, চুলা, রেগুলেটর, পাইপ পরীক্ষা করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে চুলা ঠিকভাবে বন্ধ হয়েছে কি না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন