ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ১০টার দিকে রান্নাঘরে মশার কয়েল জ্বালাতে যায় মকবুল–রেখা দম্পতির ১১ বছর বয়সী শিশুপুত্র আরিফ হোসেন। দেশলাই জ্বালাতেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় আরিফকে বাঁচাতে ছুটে আসেন তাঁর মা, বাবা ও ছোট ভাই জোবায়ের হোসেন (৭)। অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারে তাঁরা আর বাইরে আসতে পারেননি। ভেতরে আটকা পড়ে দগ্ধ হন সবাই। ঘটনাস্থলেই জোবায়ের (৭) মারা যায়। পরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মকবুল মিয়া (৪২), আরিফ হোসেন ও সবশেষে রেখা বেগম মারা যান। এর আগে হাসপাতালে রেখার গর্ভে থাকা কন্যাসন্তানের জন্ম হয় মৃত অবস্থায়।

এ ঘটনায় গত ২ মার্চ ভবনমালিকের গাফিলতি এবং গ্যাস–সংযোগে ফুটা থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন মকবুলের মা খোরশেদা বেগম। মামলায় ভবনমালিক আলাই মোল্লা (৬০), তাঁর স্ত্রী সালমা আক্তার (৪৭), দুই ছেলে মাহফুজ মোল্লা (২২) ও আলম মোল্লা (২৫) এবং বাড়ির দারোয়ান কবির মিয়াকে আসামি করা হয়।

মকবুল মিয়া আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের সফর মিয়ার ছেলে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন। উপজেলা সদরের শরীয়তনগর এলাকার আলাই মোল্লার ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়ায় থাকতেন তিনি। নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা একটি কিন্ডারগার্টেনে পড়াতেন মকবুল ও রেখা।

ঘটনার পাঁচ দিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। মার্চের প্রথম দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির সদস্যরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে। কোড না মেনে ওই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন মালিকের গাফিলতি ও গ্যাস–সংযোগে ফুটা থাকার কারণে মকবুলের ঘরে গ্যাস পুঞ্জীভূত ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

আপসরফার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন আশুগঞ্জের ইউএনও অরবিন্দ বিশ্বাস। তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এটি বিচারাধীন থাকায় তদন্তের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর স্পষ্ট কারণসহ সবই উল্লেখ রয়েছে।

মামলায় আপসরফার প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মো. শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় অপরাধ অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেবে পুলিশ।