default-image

মৌলভীবাজার-শমসেরনগর সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সড়কের মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর সিএনজিস্ট্যান্ড এলাকায় পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। সড়কটি সংস্কারে ইতিমধ্যে দরপত্র গৃহীত হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারের দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আজ সকালে হৃদরোগে এক অটোরিকশাচালকের মৃত্যুর সূত্র ধরে এই হঠাৎ অবরোধ কর্মসূচি দেন চালকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সড়কটি ভাঙাচোরা থাকায় ওই চালককে যথাসময়ে হাসপাতালে নেওয়া যায়নি। ১৫ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টার বেশি।

অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশাচালক ও চৌমোহনা টু শমসেরনগর-কমলগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ড পরিচালনা কমিটির সদস্য শাবলু মিয়া (৩৫) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এর আগে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের প্রতাপী থেকে অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়ে মৌলভীবাজার-শমসেরনগর সড়কের চৈত্রঘাট এলাকায় আসেন। সেখানেই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাড়ি চালানো অবস্থায় হঠাৎ করে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। তাঁকে তখনই মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর শুনেই সড়কের অটোরিকশাচালকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দুপুর ১২টার পর মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর সিএনজিস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়কের ঠিকাদার দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিলে এবং পুলিশের হস্তক্ষেপে বেলা একটার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করেন চালকেরা। এরপর ধীরে ধীরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন
একজন শ্রমিক হার্ট অ্যাটাক করেছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগেছে। রাস্তার ঝাঁকুনিতে তিনি আরও অসুস্থ হয়েছেন। স্থানীয় সব শ্রমিকের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এ জন্য শ্রমিকেরা বেশি বিক্ষুব্ধ হয়েছেন।
শাহনেওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক, চৌমোহনা টু শমসেরনগর-কমলগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ড পরিচালনা কমিটি

অটোরিকশাচালকদের দাবি, রাস্তা খারাপ থাকার কারণে অসুস্থ শাবলু মিয়াকে চৈত্রঘাট থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টার ওপরে। যদি রাস্তা ভালো থাকত, তাহলে সময় লাগত ১৫ মিনিট। দ্রুত যেতে পারলে হয়তো শাবলু মিয়াকে বাঁচানো সম্ভব হতো। এ জন্য রাস্তা দ্রুত মেরামতের দাবিতে তাঁরা এই অবরোধ করেন। চালকদের অভিযোগ, প্রায় দুই-তিন বছর ধরে মৌলভীবাজার-শমসেরনগর সড়কের অবস্থা বেহাল। কাজ শুরু করে শুধুমাত্র রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে অটোরিকশা চালাতে গিয়ে অনেক চালকই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

চৌমোহনা টু শমসেরনগর-কমলগঞ্জ সিএনজিস্ট্যান্ড পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন শ্রমিক হার্ট অ্যাটাক করেছেন। তাঁকে হাসপাতালে নিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লেগেছে। রাস্তার ঝাঁকুনিতে তিনি আরও অসুস্থ হয়েছেন। স্থানীয় সব শ্রমিকের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। এ জন্য শ্রমিকেরা বেশি বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। আমি ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। ঠিকাদার বলেছেন, আগামী শনি-রোববার থেকে কাজ শুরু করবেন। কাজ শুরু না করলে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু কোভিডের কারণে কাজ হতে পারেনি। সম্প্রতি রাস্তার কাজ আবার শুরু হয়েছে। সড়কের ২০ কিলোমিটার এলাকায় সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে সড়কের চাতলাপুর পাহাড়ি এলাকাতে কাজ চলছে।

সংস্কারকাজের ঠিকাদার মুহিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাস্তায় কাজের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। মালামাল রাস্তার পাশেই শ্যামেরকোনা স্টক ইয়ার্ডে এনে জমা রাখা হয়েছে। কার্পেটের জন্য ফেবার মেশিনও এনে রাখা হয়েছে। এখন সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীরা মালামাল পরীক্ষা করলেই কাজ শুরু হবে। আগামী রোববার থেকে মৌলভীবাজার শমসেরনগর অংশের কাজ পুরোদমে শুরু করতে পারব বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘গত ১৭ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়েছিল। পরে কোভিডের কারণে বন্ধ হয়ে যায়। তা না হলে তখন দুই মাসে কাজ শেষ হয়ে যেত।’

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘ঠিকাদার কাজ করছেন। সড়কের চাতলাপুরের দিকে কাজ চলছে। রাস্তা খারাপ থাকায় সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। ঠিকাদারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে চৈত্রঘাট থেকে মৌলভীবাজার সদর অংশেও পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করবেন বলেছেন।’
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, রাস্তা ভাঙা ও খারাপ থাকায় চালকদের গাড়ি চালাতে কষ্ট হচ্ছে। রাস্তা ঠিক হচ্ছে না। আজ একজন চালক সম্ভবত হৃদরোগে মারা গেছেন। শ্রমিকেরা রাস্তা ব্লক করেছিলেন। পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বললে অবরোধ প্রত্যাহার করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0