default-image

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের ৩০টি প্রকল্প সুনামগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি থেকে এখনো অনুমোদন মেলেনি। অথচ কাগজে-কলমে সব কটি প্রকল্পের কাজ শুরু দেখানো হয়েছে। বাস্তবে সব কটি প্রকল্পের কাজই শুরু করা হয়নি। প্রকল্পগুলোর কাজ না করে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এ উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য চলতি বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহে ১ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রকল্প দেওয়া হয় ৩০টি। আগামী ২৩ জুনের মধ্যে সব কটি প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। ১ এপ্রিল উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে এসব প্রকল্প অনুমোদনের সুনামগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থা কমটির কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু এসব প্রকল্পের এখনো অনুমোদনই মেলেনি।

প্রকল্পগুলোর কাজ না করে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পগুলোর অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পিআইও কার্যালয় বিধিবহির্ভূতভাবে ৩ এপ্রিল থেকে সব প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে কাগজে-কলমে দেখিয়েছে। বাস্তবে সব প্রকল্প কাজ শুরু করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার কয়েকটি প্রকল্প এলাকা সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার হলিদাকান্দা গ্রামের হিরণ মিয়ার বাড়ি থেকে নোয়াবন্দ গ্রামে যাওয়ার প্রধান সড়ক পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, সুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, চামরদানী গ্রামের আলী উসমানের বাড়ি থেকে ধীরেন্দ্রর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত, নন্দীপাড়া কামারগাঁও গ্রামের ব্রিজসংলগ্ন রাস্তা মেরামত, বদলপুর থেকে আতকাপাড়া জাঙ্গাল পর্যন্ত গোপাট মেরামত, বিশারা গ্রামের ভেতর রাস্তা মেরামত, আলীহারপুর গ্রামের ইছবের বাড়ির পেছন থেকে সড়ক পর্যন্ত রাস্তা মেরামত, আমানীপুর মহর উদ্দিনের বাড়ির পাশের মেইন রোড থেকে সোলেমান মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ, গড়াকাটা রাস্তা থেকে রাজ্জাক মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার এই প্রকল্পগুলোতে কাজ এখনো শুরুই করা হয়নি।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হবে ১৮ এপ্রিল। ওই সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার আগে কাজ শুরু করলে তাতে কোনো সমস্যা নেই।
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত কয়েকজন শ্রমিক বলেন, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বর মিইল্যা পিআইও অফিসরে ম্যানেজ কইরা প্রকল্পের কাম না করাইয়াই কামের টেহা তুইলা লাইতে হারে। এইডার প্রতি বড় স্যারেরা (ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ) নজর দিতে অইবো।’

ধরমপাশা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ ও চামরদানী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওয়াসিল আহমদ বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পগুলো অনুমোদন না দেওয়ায় আমরা এখনো প্রকল্পকাজ শুরু করিনি।’

মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাসের পরামর্শে সপ্তাহখানেক ধরে আমার ইউনিয়নে তিনটি প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের সব প্রকল্প কাজ ৩ এপ্রিল থেকে শুরু দেখানো হয়েছে। কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করা না হয়ে থাকলে সরেজমিন না দেখে এ নিয়ে কিছু বলা যাবে না। কাজ না করে বিধিবহির্ভূতভাবে এই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই কাজ শুরু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি হাওর এলাকা। আগাম বন্যার কারণে পানি চলে এলে বা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে প্রকল্প কাজগুলো করানো কোনো অবস্থাতেই সম্ভব হবে না। তাই এলাকাবাসীর স্বার্থে প্রকল্পগুলো অনুমোদন না হলেও কাজ শুরু করে দিতে বলা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হবে ১৮ এপ্রিল। ওই সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে। তবে প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার আগে কাজ শুরু করলে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন