default-image

অতিবৃষ্টি ও বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বগুড়ার শেরপুরের কৃষকেরা নতুন করে সবজি চাষে নেমেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার গ্রামে গ্রামে চলছে সবজি চাষের জমি তৈরি, বীজ, চারা রোপণসহ পরিচর্যা। আগাম রবি মৌসুমে সবজি চাষে নেমেছেন উপজেলার ৯ হাজার ৭৫০ জন কৃষক। তাঁরা ১ হাজার ৬২৫ একর জমিতে সবজি চাষ করছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর।

সরেজমিনে অন্তত ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর জুলাই মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ভালো বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের সবজি চাষের নিচু জমিগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়। এরপর বন্যাতেও তলিয়ে থাকে সবজিখেত। চলতি বছরে জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে উপজেলার নদীর তীরবর্তী নিচু জমির অন্তত ১৭ একর সবজি চাষের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জি এম মাসুদ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলার গাড়িদহ, খামারকান্দি, খানপুর, মির্জাপুর ও সুঘাট গেলে দেখা যায়, গ্রামের কৃষকেরা সবজি চাষে এখন সময় দিচ্ছেন। কৃষকের মধ্যে অনেকেই সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। আবার কেউ চারা রোপণ করছেন। সবজি চাষের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শাকসহ সবজি।
উপজেলার মহিপুর গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, সবজি চাষের জন্য তিনি এক বিঘা জমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছেন। চাষ করেছিলেন মুলা চাষ। এতে ব্যয় হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে তাঁর সবজিখেত নষ্ট হয়ে যায়। এখন এই জমিতে নতুন করে মুলা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার বড়ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে তাঁর ১১ শতক সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তিনি নতুন করে এই জমিতে শিম চাষে নেমেছেন। ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি ১৩ শতক জমিতে নতুন করে মুলা চাষে নেমেছেন। সুঘাট ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের কৃষক সাগর আলী বলেন, বন্যার আগেই দেখা দেয় অতিবৃষ্টি। এতে এলাকার অন্তত ৫০ বিঘা সবজি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর দেখা দেয় বন্যা। এই বন্যাতেও ওই সব সবজিখেতগুলো তলিয়ে ছিল।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাসুদ আলম জানান, শেরপুরে উপজেলায় গাড়িদহ, খামারকান্দি, খানপুর ও সুঘাট ইউনিয়ন এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করেন কৃষকেরা। এ জন্য শেরপুরে ফুলবাড়ি নামে সবজি বাজার গড়ে উঠেছে। এই বাজার থেকে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারেরা এসে সবজি কিনে নিয়ে যান। বন্যা–পরবর্তী সময়েও এই বাজারে সবজি কেনাবেচা চলছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সারমিন আক্তার বলেন, এ সময় সবজির দাম ভালো। অতিবৃষ্টি ও বন্যা–পরবর্তী এই সময়ে কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষে নেমে তাঁদের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

মন্তব্য পড়ুন 0