বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হয়তো সরাসরি যুক্ত ছিলেন না, তবে ওই শিক্ষক হলসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মানসিক চাপে ছিলেন।

তদন্তের সময় কমিটি ৬৫ জন শিক্ষার্থী, ৪০ জন শিক্ষকসহ প্রায় ১৪০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। পাশাপাশি অধ্যাপক সেলিম মারা যাওয়ার দিনের ঘটনা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান মহিউদ্দিন আহমাদ প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে তাঁরা তদন্ত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধ্যাপক মো. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা যে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় জড়িত আনুমানিক ৪০ জন শিক্ষার্থীর ভূমিকা আলাদা করে ওই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁরা সরাসরি যুক্ত, এমনটা প্রমাণ করা যায়নি। তবে তাঁকে যে মানসিক নিপীড়ন করা হয়েছিল, তা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটি শাস্তির কোনো সুপারিশ করেনি। বিষয়টা তারা প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় পর্যবেক্ষণসহ নয়টি সুপারিশ করা হয়। সূত্র জানায়, কমিটি যেসব সুপারিশ করেছে, সেখানে ছাত্ররাজনীতি একেবারে বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে কিছুদিনের জন্য ক্যাম্পাসে ছাত্রদের রাজনীতি কর্মকাণ্ড স্থগিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। কুয়েট ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও ছাত্রকল্যাণ পরিষদের পরিচালক অধ্যাপক ইসমাঈল সাইফুল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনায় যাঁদের নাম এসেছে, আমরা তাঁদের শোকজ নোটিশ পাঠাচ্ছি। উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। উত্তরগুলো পাওয়ার পরই শৃঙ্খলা কমিটির সভা হবে। সেখানে বিষয়গুলো উত্থাপন করা হবে। শাস্তি পাওয়া বা না পাওয়ার বিষয়ে ওই সভায় সিদ্ধান্ত হবে। ক্যাম্পাস খোলার আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান প্রথম আলোকে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানার পর তাঁরা এ ব্যাপারে কথা বলবেন।

গত ৩০ নভেম্বর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়া বাসায় মারা যান। অভিযোগ ওঠে, মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তাঁর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়। এর আগেও হলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর ওপর মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড। অধ্যাপক সেলিমের পরিবারও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন