বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আহ্বায়ক হয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির ২৪ নম্বর সহসভাপতি মাসুদুর রহমান ওরফে সজন। আর সদস্যসচিব করা হয়েছে রেজাউল করিম ওরফে টুটুলকে। তিনি জেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি। তিনি এখনো ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে গত ২ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তাঁদের ‘অযোগ্য’ বলা হয়েছে। দলে তাঁদের কোনো ত্যাগ নেই। তাঁরা কোনো রাজনৈতিক হামলা ও মামলার শিকার হননি। তাঁরা বলছেন, ত্যাগ স্বীকার না করে দলের এত বড় পদ অতীতে কেউ পাননি।

জেলা যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম ওরফে সমাপ্ত বলেন, ‘আমার নামে ১৩টি রাজনৈতিক মামলা চলমান। আর যাঁকে আহ্বায়ক করা হয়েছে, তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। তাঁকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডাকলেও পাওয়া যায়নি। দলের জন্য তাঁর কোনো ত্যাগ নেই। তিনি একজন ব্যবসায়ী। গত ঈদে ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকাবাসীকে ব্যানার ফেস্টুন দিয়ে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর মতো অপরিচিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করায় জেলার প্রতিটি ইউনিটের নেতা–কর্মীরা হতাশ।’

মহানগরে তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবদুল কাদের ওরফে বকুল আহ্বায়ক, শরিফুল ইসলাম ওরফে জনিকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও রফিকুল ইসলাম ওরফে রবিকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শরিফুল জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও রফিকুল ছিলেন মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা ওই কমিটি থেকে এখনো পদত্যাগই করেননি।

দলীয় নেতারা বলছেন, আবদুল কাদের রাজনীতিতে অনিয়মিত। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। একটি কর্মিসভায় তিনি বোয়ালিয়া থানা কমিটির আহ্বায়ক হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী তাঁকে বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল। সেখান থেকে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক করায় দলের ত্যাগী নেতা–কর্মীরা বিস্মিত হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন এই কমিটি বাতিলের দাবিতে মহানগরের আটটি থানায় পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।

তারেক রহমান আমাকে না চিনলে কীভাবে আমাকে এত বড় পদ দিলেন। এতে বোঝা যায়, রাজনীতির মাঠে আমি অপরিচিত নই।
মাসুদুর রহমান, সদ্য ঘোষিত জেলা যুবদলের আহ্বায়ক

শরিফুল ইসলামকে কী কারণে জেলা থেকে মহানগরে টেনে আনা হলো, নেতাকর্মীরা এই প্রশ্ন তুলেছেন। আবার রফিকুল ইসলামের মতো কনিষ্ঠ পর্যায়ের ছেলেকে বিভাগীয় শহর রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব করা হয়েছে, তা নিয়েই নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।

নগরের শাহ মখদুম থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. নাসিম বলেন, যাকে যুবদলের নগর কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে, তাঁর একটি থানা যুবদল সামলানোর যোগ্যতাই নেই। তিনি কীভাবে রাজশাহী মহানগর যুবদল চালাবেন? রাজশাহী নগরে যুবদলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতার তো অভাব নেই। তিনি বলেন, এই কমিটি কেউ মনে নেবেন না।

এ বিষয়ে নগর যুবদলের নতুন আহ্বায়ক আবদুল কাদের বলেন, ‘একটি বড় দলের অনেক নেতা থাকেন। তাঁদের নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে। তাঁরা দেখুক আমরা কাজ করতে পারি কি না। আমরা কথা বলছি, সবাইকে নিয়ে কাজ করব।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলার আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার গার্মেন্ট ব্যবসা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেতা হিসেবে কমিটি গঠনের সময় আমি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। তারেক রহমান আমাকে না চিনলে কীভাবে আমাকে এত বড় পদ দিলেন। এতে বোঝা যায়, রাজনীতির মাঠে আমি অপরিচিত নই।’ তিনি বলেন, বড় দলে অনেকেই নেতা হতে চাইবেন, কিন্তু পদ তো একটিই। একজনই নেতা হবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন