অনলাইন ক্লাসের সংখ্যায় আবারও দেশসেরা রাজবাড়ী
অনলাইন ক্লাসের সংখ্যায় আবারও দেশসেরা হয়েছে রাজবাড়ী। এটুআই পরিচালিত শিক্ষক বাতায়ন এই ফলাফল প্রকাশ করে। দেশসেরা হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরও একবার দেশসেরা হয়েছিল রাজবাড়ী।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলায় মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ১৪৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানে ৮২ হাজার ২৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে পাঠদান করেন ১ হাজার ৮৬৭ জন শিক্ষক। মাদ্রাসা আছে ৭৩টি। এতে অধ্যয়নরত ১৮ হাজার ২০২ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসায় শিক্ষক আছেন ১ হাজার ২০২ জন। এ ছাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ আছে চারটি। এতে ১৫৫ জন শিক্ষক ৩ হাজার ৯৩৪ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেন। ২৭৯টি স্কুলে অনলাইন শ্রেণিকার্যক্রমে যুক্ত আছেন ২ হাজার ৬০৬ জন শিক্ষক। তাঁরা ৮১ হাজার ৭৭৯টি ক্লাস নিয়েছেন। রাজবাড়ীর পরের অবস্থানে আছে লালমনিরহাট। তারা ক্লাস নিয়েছে ৮১ হাজার ৫০৪টি। ৪৪ হাজার ৯৭৯টি ক্লাস নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রাম। অপর দিকে কুমিল্লা চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে ২৬ হাজার ৩২৬টি ক্লাস নিয়ে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩ হাজার ৪১৭টি ক্লাস নিয়ে রাজবাড়ী প্রথম স্থান অর্জন করে। তালিকায় দ্বিতীয় হয় টাঙ্গাইল জেলা। তাদের ক্লাসের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৩৯। এ সপ্তাহে জেলায় সর্বোচ্চ ক্লাস নিয়েছেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের আফড়া ইসলামিয়া সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসার গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। রাজবাড়ীতে গত বছর ১৮ এপ্রিল থেকে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
জবাড়ী জেলায় এই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ক্লাস নেওয়া সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘আমি শনিবার পর্যন্ত মোট ৭০০ ক্লাস নিয়েছি। সব সময় নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় কাজ করেছি। রাজবাড়ী জেলা সারা দেশে প্রথম হওয়াতে খুব ভালো লাগছে। গত দুই সপ্তাহে আমি সবচেয়ে বেশি ক্লাস নিয়েছি। জেলাকে দেশসেরা করার ক্ষেত্রে নিজে অবদান রাখতে পেরে আনন্দ আরও বেড়ে গেছে। নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। তবে আমাদের এই কার্যক্রম ধরে রাখতে হবে।’
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমি রাজবাড়ীর সন্তান। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চাকরি করেছি। শিক্ষকদের সঙ্গেও ভালো জানাশোনা আছে। তাঁরা খুব আন্তরিক। করোনা শুরু হওয়ার পর থেকেই কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলাম। শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদারক করেন। প্রতি মাসে এ বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। করোনাকালে সারা দেশে আবারও প্রথম হওয়ার মতো ভালো খবর পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি খুব খুশি। ছোট জেলা হওয়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও কম। তবে শুরু থেকেই আমরা অনলাইন ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে খুবই আন্তরিক। শিক্ষকেরাও আন্তরিক। আমরা আগেও প্রথম হয়েছিলাম। অনলাইনে ক্লাস নেওয়ায় শিক্ষকদেরও কোয়ালিটি (গুণমান) বেড়েছে। তাঁরা আগের চেয়ে ক্লাসে আরও ভালো পাঠদান করতে পারবে বলে বিশ্বাস করি। তবে সরাসরি ক্লাস নেওয়া শুরু হলে অনলাইনে পাঠদান চলার কথা নয়।’