default-image

পাঁচ-সাত দিন আগেই নৌকা সাজানোর কাজ শেষ করেছেন খোকন গাজী (৬০)। লোকজনও প্রস্তুত রয়েছে। অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পাস (অনুমতিপত্র) হাতে পান। কিছুক্ষণ পরই তিনি মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনে রওনা হন।

খোকন গাজীর বাড়ি সুন্দরবন–সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামে। গতকাল সকালের দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।

খোকন গাজীর মতো কালিঞ্চি, মীরগাং, সোরা, গাবুরাসহ সুন্দরবন–সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মৌয়াল গতকাল থেকে সুন্দরবনে ঢুকতে শুরু করেছেন।

প্রতিবছরের মতো ১ এপ্রিল থেকে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে মৌয়াল দলগুলো মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনে যাচ্ছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে মৌয়ালদের হাতে মধু সংগ্রহের পাস দেওয়া হয়। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এম এ হাসান। নির্দেশনামূলক বক্তব্যের পর মৌয়ালদের হাতে ‘পাস’ তুলে দেন এম এ হাসান। পশ্চিম সুন্দরবনের চারটি স্টেশন থেকে প্রথম পর্যায়ে দুই শতাধিক মৌয়াল দলকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মৌয়ালদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি দলে সাত থেকে নয়জন সদস্য থাকেন। প্রথম পর্যায়ে তাঁরা ১৫ দিন সুন্দরবনে অবস্থান করে মধু ও মোম সংগ্রহ করে ফিরে আসবেন। পরে আবার সুন্দরবনে যাবেন। এভাবে টানা দুই মাস ৩১ মে পর্যন্ত সুন্দরবন থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হবে।

এদিকে এবার আশানুরূপ মধু পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ের কথা জানিয়েছেন মৌয়ালেরা। তাঁরা বলেন, আগাম বৃষ্টি না হওয়ায় এবং চোরাইভাবে মধু সংগ্রহ করায় এবার মধু কম পাওয়া যেতে পারে।

সোরা গ্রামের মোসলেম উদ্দীন ও আবুল হোসেন এবং কদমতলা গ্রামের আলম গাজী বলেন, ৭ থেকে ৯ জনের একটি বহর নিয়ে বনে যেতে প্রতিটি চালানে ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। মহাজনের থেকে চোটাই (সুদে) টাকা নিয়ে সুন্দরবনে যাচ্ছি। যদি চালান মার যায়, তবে ঋণের বোঝা টেনে বেড়াতি হবে। কাজকাম না থাকায় বাধ্য হয়ে এ বছর মধু সংগ্রহে যাচ্ছি।

* প্রথম পর্যায়ে দুই শতাধিক মৌয়াল দলকে অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে। * এ বছর মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৫০ কুইন্টাল এবং মোম ২৬৫ কুইন্টাল।

কালিঞ্চি গ্রামের হাফিজুর রহমান ও চাঁদনীমুখা গ্রামের নওহর আলী বলেন, এলাকায় কাজ নেই। এ বছর মাছ ও কাঁকড়া শিকারের আড়ালে প্রচুর বনজীবী সুন্দরবনে থেকে চোরাইভাবে মধু কেটেছেন। ধারণা করা হচ্ছে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার মধু অনেক কম জুটবে।

এদিকে গত কয়েক বছর সুন্দরবনে বাঘের উপদ্রব না থাকায় মৌয়াল দলগুলো অনেকটা নির্বিঘ্নেœমধু সংগ্রহ করেছিল। কিন্তু এ বছর গোলপাতা মৌসুমের শেষ দিকে পশ্চিম সুন্দরবনের পায়রাটুনি এলাকায় বাঘের আক্রমণে এক বনজীবী নিহত হন। এ ঘটনায় মৌয়াল দলের সদস্যরা কিছুটা আতঙ্কে রয়েছেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এম এ হাসান বলেন, মৌয়ালেরা মধু সংগ্রহে বনে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন। এ বছর ১ হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু, ২৬৫ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন