জামাল নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের আখদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জামালের বাবা তোকাম মোল্লার নিজের কোনো ফসলি জমি ছিল না বলে তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুরির কাজ করতেন। কিছু টাকা সঞ্চয় করতে পারলে অল্প কিছু জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন। তবে শেষ দিকে অসুস্থ থাকায় জামালের পরিবারে আর্থিক টানাপোড়েন বেড়ে গিয়েছিল।

দুই ভাইয়ের মধ্যে জামাল ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাইয়ের স্ত্রী, ভাইয়ের দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে এখন তাঁদের ছয় সদস্যের সংসার। নিজেদের ফসলি জমি নেই। ছোট বসতভিটায় বসবাসের জন্য আছে একটি টিনের চালার বাড়ি। সেখানেই গাদাগাদি করে জামালের বাস। জামালের বড় ভাই দেলোয়ার মোল্লা রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। আর জামালের মা মাঝেমধ্যে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এই দুজনের রোজগার দিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলে তাঁদের সংসার।

তবে দারিদ্র্য ছাপিয়ে জামাল বরাবর সফল হয়েছেন। আখদিয়া শিমুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন তিনি। এরপর নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জামাল জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

জামাল বলেন, ‘টাকার অভাবে সব বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে পারিনি। কয়েকজন স্যার বিনা টাকায় পড়িয়েছেন। মাঝেমধ্যে না খেয়ে ক্লাসে যেতে হয়েছে। এত কষ্টের পর মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে। কিন্তু এখন ভর্তি হওয়ার টাকা, পরবর্তী পড়াশোনার খরচ—এগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন