র‍্যাব-৪-এর সিপিসি-৩ মানিকগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ হাসান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামি সিরাজুল বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে রিকশা চালানোসহ দিনমজুরের কাজ করতেন। গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে গতকাল তাঁকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৪-এর একটি দল। এরপর তাঁকে ঢাকার কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আজ দুপুরে গ্রেপ্তার সিরাজুলকে সিঙ্গাইর থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

২০০৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সিরাজুল শ্বআট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কালীগঙ্গা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। এতে আট মাসের গর্ভের সন্তানও হত্যা করেন তিনি।

গ্রেপ্তার সিরাজুলের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহির চর গ্রামে। তবে তিনি জামিনে বের হয়ে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে আড়াল করতে ‘সিরাজ’ নাম ধারণ করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর গ্রামকে বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। তবে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে মানিকগঞ্জ সদরের নবগ্রাম ইউনিয়নের বাড়ইল চর ব্যবহার করেন।

র‍্যাব জানায়, ২০০২ সালের জুলাই মাসে সিরাজুল মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জামশা গ্রামের আবদুল জলিলের মেয়ে জুলেখা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে তাঁকে বেশ কিছু নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাব দেওয়া হয়। এরপর আরও যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধর করতেন সিরাজুল। এ নিয়ে সালিস হলে সিরাজুল ক্ষিপ্ত হন। ২০০৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সিরাজুল শ্বশুরবাড়ির অদূরে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। এতে আট মাসের গর্ভের সন্তানও হত্যা করেন তিনি।

পরদিন পুলিশ নিহত জুলেখার লাশ উদ্ধার করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ওই দিনই (৭ ডিসেম্বর) নিহত জুলেখার বাবা আবদুল জলিল বাদী হয়ে সিরাজুলসহ তাঁর বড় ভাই রফিকুল ইসলাম, মা রাবেয়া বেগম, খালু শামসুল ইসলাম, দুই চাচা মো. ফাইজুদ্দিন ও মো. তাইজুদ্দিন এবং মামা আবুল হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ আসামি শামসুলকে গ্রেপ্তার করলে তিন মাস পর জামিনে মুক্ত হন।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামি সিরাজুল, রফিকুল, রাবেয়া ও শামসুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০০৫ সালে পর্যাপ্ত সব সাক্ষ্য ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে জুলেখাকে হত্যার দায়ে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. মোতাহার হোসেন সিরাজুলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিন আসামিকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন