সকাল পৌনে ১০টায় কক্ষটিতে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বুথের মধ্যে বিভাজন নেই। বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। কক্ষটির ভেতর এলোমেলোভাবে বেঞ্চ পড়ে আছে। বুথ বানানো হয়েছে বেঞ্চ দিয়ে। দরজার সামনে ভোটারদের সারি। দুটি বুথের ভেতরে অর্ধশত সহকারী পোলিং এজেন্ট ছাড়াও ভোটার রয়েছেন অন্তত আরও ৫০ জন। জানালা দিয়ে আসা স্বল্প আলো কিছুটা অন্ধকার দূর করেছে। এ অবস্থায় বুথের ভেতর ভোট দিতে ভোটারদের, বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

১ নম্বর বুথে ভোট দেওয়া নূর জাহান বেগম নামের বয়স্ক ভোটার জানান, ‘কিচ্ছু দিহি না। একজন আইয়া কইল, “সহযোগিতা করি।” আমি কইলাম, কর। দেহাইয়া দিল। তা–ও দেহি না। পরে ছেরাডা (ছেলে) আমার ভোট দিয়া দিছে।’

লক্ষ করা গেছে, ১ নম্বর বুথের নৌকার পোলিং এজেন্ট আল আমিন মিয়া অন্ধকারের মধ্যে ভোট দিতে সহযোগিতা করছেন। অন্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা এ দৃশ্য দেখলেও প্রতিবাদ নেই। সমস্যাটি ধরিয়ে দিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা চুপ থাকেন।
বুথে কেন, এমন প্রশ্নে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক আল আমিন বলেন, ‘যারা চোখে কম দেখে, ঝাপসা দেখে কিংবা দূরের জিনিস দেখলেও কাছের জিনিস দেখে না, সেই ভোটারদের সাহায্য করছি।’

ভোটারদের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আনার পর ১ নম্বর বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, খুবই সমস্যা হচ্ছে। এককথায় অন্ধকার কক্ষে ভোট নিতে হচ্ছে। ফলে বিশৃঙ্খলা এড়ানো যাচ্ছে না।

একই দৃশ্য ২ নম্বর বুথেও। সেখানেও নৌকার সমর্থকেরা বুথে গিয়ে অন্ধকারের অজুহাত দাঁড় করিয়ে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থীর বিষয়ে প্রভাবিত করছিলেন।
বিষয়টি ২ নম্বর বুথের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হোসনে আরা আক্তার বানুর নজরে আনলে তিনি প্রথমে কিছু বলতে রাজি হননি। পরে বলেন, অন্ধকার। এ রকম কক্ষে গিয়ে ভালো ভোট নেওয়া যায়?

অন্যান্য কক্ষে গিয়ে দেখা যায় বুথ নিয়ন্ত্রণে নৌকার একজন করে প্রতিনিধির। ভোটের আগের দিন আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের বুথের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ‘নৌকার ফলোয়ার বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত।

৩ নম্বর বুথে গিয়ে দেখা যায়, বুথের কাছে দাঁড়িয়ে আছেন নৌকার কর্মী তোফাজ্জল হোসেন। তাঁর গলায় নৌকার পরিচয়পত্র ঝোলানো। তিনি ভোটারদের বুথের ভেতর নিয়ে যাচ্ছিলেন।

তোফাজ্জল বলেন, যাঁরা সহযোগিতা চাচ্ছেন, কেবল তাঁদের তিনি সহযোগিতা দিচ্ছেন। কোনো বিশেষ প্রার্থীকে ভোট দিতে বলছেন না।

৪ নম্বর বুথের দায়িত্বে থাকা নৌকার মিজান ভূঁইয়াও একই মন্তব্য করেন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে কথা হয় কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জিয়ারত আলীর সঙ্গে। অভিযোগটি পাওয়ার পর তিনি এই প্রতিবেদকের সঙ্গে বুথগুলোতে যান। গিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। অন্ধকারের বিষয়ে তিনি বলেন, আগে থেকেই কক্ষটিতে বিদ্যুৎ–সংযোগ নেই। ফলে কিছু করার ছিল না। বুথ করার বিষয়ে অন্ধকার কক্ষ এড়ানো যেত কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে কক্ষসংকট।
শিমুলকান্দি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমান। দলটির বিদ্রোহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল আজিজ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন