default-image

নেপালের অন-অ্যারাইভাল ভিসা পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পর্যটন ও বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত বনশিধর মিশ্রা। তিনি বলেন, অন-অ্যারাইভাল ভিসা পদ্ধতি ছাড়াও নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন দূরত্ব মাত্র ৩৭ কিলোমিটার। কিন্তু এরপরও নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আশানুরূপ নয়। এর কারণ ট্যারিফসংক্রান্ত কিছু জটিলতা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই সমস্যাগুলো নিরসনে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী অক্টোবর মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের একটি বৈঠকে এই জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও সিলেটের বিজনেস কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নেপালের রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। নগরের জেল রোড এলাকায় সিলেট চেম্বার ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব।

সভায় নেপালের রাষ্ট্রদূত বনশিধর মিশ্রা বলেন, নেপাল বাংলাদেশের প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নেপালে রাজতন্ত্র ছিল। ২০০৮ সাল থেকে নেপাল প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির দুর্বার প্রতিরোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ নেপালের গণতন্ত্রকামী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পদ্ধতি সম্পর্ক দৃঢ় করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বনশিধর মিশ্রা বলেন, ‘এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে পারি। নেপালে ফলমূল ও শাকসবজির দাম বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা নেপাল থেকে ফলমূল ও শাকসবজি আমদানি করতে পারেন।’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে নেপালের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের রেল যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নে শিগগিরই বাংলাদেশ-নেপাল চেম্বার অব কমার্স গঠিত হতে যাচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশ ও নেপালের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। যার মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য ও শিল্প উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।

মতবিনিময় সভায় সিলেটের শিল্প, কৃষি, পর্যটন ও শিক্ষা খাত নিয়ে আলোচনা করেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক ও ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেন, সিলেটে অনেকগুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেপালের ছাত্রছাত্রীরা আছেন। কম খরচে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষিপণ্য আমদানি করতে পারেন। সিলেটের শিল্পমালিকেরা নেপালের রাষ্ট্রদূতকে সিলেটের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সফরের অনুরোধ জানান।

মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০০ নেপালি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী ভবিষ্যতে নেপাল থেকে আরও শিক্ষার্থী বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহী হবেন। আমরা নেপালের শিক্ষার্থী ও বিনিয়োগকারীদের সিলেটে স্বাগত জানাই।’

সিলেটের পর্যটন খাতকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে সিলেট চেম্বার সভাপতি নেপাল ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ প্রত্যাশা করে বলেন, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নেপাল ও বাংলাদেশর পর্যটনশিল্পকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

মতবিনিময় সভার শুরুতে সিলেট চেম্বারের পক্ষ থেকে নেপাল রাষ্ট্রদূতকে শুভেচ্ছা স্মারক হস্তান্তর করা হয়। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী দুর্গা মিশ্রা, নেপাল দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি রঞ্জন যাদব, সিলেট চেম্বারের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি চন্দন সাহা, সহসভাপতি তাহমিন আহমদ, সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই পরিচালক খন্দকার সিপার আহমদ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, শিল্প উদ্যোক্তা মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী, নারী উদ্যোক্তা সামিয়া বেগম চৌধুরী প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন