গোয়ালন্দে স্কুলছাত্র মিরাজ হত্যা

অপরাধী দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

স্কুলছাত্র মিরাজের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে 
তার সহপাঠী–শিক্ষকদের মানববন্ধন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের সামনে।
স্কুলছাত্র মিরাজের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে তার সহপাঠী–শিক্ষকদের মানববন্ধন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের সামনে।প্রথম আলো
বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মার দুর্গম চরে দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে নবম শ্রেণির ছাত্র সুমন খান ওরফে মিরাজ খাঁকে (১৬) হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছে তার সহপাঠী ও শিক্ষকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মিরাজের বিদ্যালয় দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক মানববন্ধনে এই দাবি জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থী, সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম খান, নিহত মিরাজের বড় ভাই সেলিম খান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক শামীম শেখ, সুরাইয়া আক্তার, সহপাঠী কাওছার আহম্মেদ, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী কানিজ সুবর্ণা প্রমুখ বক্তব্য দেয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সবাই দ্রুত মিরাজের খুনিদের গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

৩১ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়ালজানি এলাকার পদ্মার চরে মিরাজের পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার হয়। এ সময় নদীর পাড় দিয়ে এলাকার কয়েকজন যাওয়ার সময় কাদাপানিতে অর্ধেক পুঁতে রাখা লাশ দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিক দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামকে অবগত করলে তিনি গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ কাদামাটি থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

এ সময় লাশের বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন এবং ডান হাত কাঁধ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এ ছাড়া লাশের শরীরে ধারালো অস্ত্রের তিন–চারটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিচ্ছিন্ন কবজি পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। পরে পরনের প্যান্ট, কপালের কাটা দাগ দেখে পরিবারের লোকজন নিখোঁজ স্কুলছাত্র মিরাজের লাশ শনাক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
৩১ আগস্ট সকালে পদ্মার চরে মিরাজের লাশ উদ্ধার হয়। এর তিন দিন আগে ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়িতে বসে খাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ফোন পেয়ে মিরাজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

মিরাজ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর চর পাচুরিয়া গ্রামের সিরাজ খাঁর ছেলে। সে দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বিচ্ছিন্ন বাঁ হাতের কবজিও উদ্ধার হয়নি। লাশ উদ্ধারের তিন দিন আগে ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়িতে বসে খাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ফোন পেয়ে মিরাজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-তায়াবীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘অপরাধীদের ধরতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করি, খুব দ্রুতই অপরাধী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন