বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আকবর পালানোর ২৭ দিন পর গ্রেপ্তার হলেন। এই ২৭ দিনই কি আপনাদের নজরদারি চলছিল? এ জন্যই কি বলা হয়েছিল, আকবর পালালেও শনাক্ত হওয়ার অবস্থায় আছেন?

১৪ অক্টোবর থেকে আমরা আকবরকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টায় নামি। এই চেষ্টার শুরুর পর্যায়টা পলাতক আকবরকে শনাক্ত করার পর্যায় ছিল। এরপর আমরা ধাপে ধাপে চেষ্টা অব্যাহত রাখি। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারব, এই মনোবল ছিল। আমাদের এই চেষ্টা শুধু জেলা পুলিশ নয়, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত তৎপরতা ছিল। নগর পুলিশ, তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সবার সহায়তা ও সমন্বয়ের ফলে আকবরকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

আকবরকে গ্রেপ্তারের দিন ৯ নভেম্বর সন্ধ্যার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয় অভিমুখে হাজার হাজার মানুষের ঢল ছিল। সেই ঢল আপনাকে সামাল দিতে দেখা গেছে। আপনাকে মানুষের ভিড়ে গিয়ে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। মানুষের কী চাওয়া ছিল?

এত দিন মানুষ পুলিশকে গালি দিয়েছিল শুধু একটি কারণে। সেটি হচ্ছে আমাদের হেফাজত থেকে আকবরের পালানো নিয়ে। ধরা পড়ার খবরে মানুষের ঢল থেকে আমাদের প্রতি আরেক আস্থা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। প্রমাণ হয়েছে, অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও পুলিশই অভিযোগকারীকে ধরে আইনের আওতায় আনতে পারে। আমি বক্তব্য দিয়েছি, মানুষের ভিড় সামাল দিতে গিয়ে। বলেছি, বিচার নিশ্চিত করতেই আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। মানুষ আমার কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন।

default-image

মানুষের এখন চাওয়া আকবরকে পালাতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এ বিষয়ে আপনি কী বলেন?

দেখুন, পুলিশের বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ থাকুক না কেন, এই পুলিশই মানুষের সবচেয়ে কাছের। এই ঘটনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। আমরা জনগণের অনুভূতি বুঝতে পেরেছি। বাহিনীর ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে সুপারভিশন হচ্ছে। গাফিলতি থাকলে অবশ্যই দেখা হবে। এ ব্যাপারে আসলে আমার বলার কিছু নেই।

রায়হানের মা বলেছেন, পুলিশি হেফাজতে তাঁর ছেলেই যেন শেষ নাম হয়। আপনি কী বলেন?

দেখুন, আমরা ২ লাখ ১২ হাজার পরিবারের। কোনো সদস্য বিচ্যুত হতেই পারে। তাই বলে গোটা বাহিনীকে দোষারোপ করা ঠিক নয়। আবারও বলছি, এই ঘটনায় আমরা চরমভাবে মর্মাহত। পুলিশের কাজ ট্রুথলি মানুষের জন্য। মানুষ ও পুলিশে সেতুবন্ধ তৈরি করা, পুলিশকে গণমুখী করা আমাদের কাজ। রিলেশন এক পক্ষে হয় না। উভয় পক্ষে থাকতে হয়। মানুষ ও পুলিশ—এই দুই পক্ষকে নিয়ে অপরাধ নির্মূল করতে গিয়ে চলতে গেলে এক-দুটি বিচ্যুতির ঘটনা ঘটে যায়। এ নিয়ে সম্পর্কেও ফাটল তৈরি হয়। আবার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও তৈরি হয়। অভিজ্ঞতা থেকে আমার সতর্কতার বার্তা পুলিশ সদস্যদের প্রতি। সেটি হচ্ছে, অপরাধ করলে পরিণতি আকবরের মতোই হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন